সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটে এবং বলে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। দিনের দুই সেশনেই নিয়মিত উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে শুরু থেকেই চাপে ফেলেন স্বাগতিকরা। শেষ সেশনে বাকি দুই ব্যাটারকেও ফেরিয়ে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে এই ফলে টাইগাররা ৪৬ রানের মূল্যবান লিড পায়। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত তিন উইকেটে ১১০ রান করে—মোট লিড ১৫৬ রানে দাঁড়িয়েছে।
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তানজিদ হাসান তামিম ফিরে গেলেও জয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন। ফিফটির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি—আক্রান্ত হয়ে মেধি আব্বাসের বলে আব্দুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। ৬৪ বলে ১০ চারের সাহায্যে তার মোট স্কোর ছিল ৫২ রান।
দলীয় শতক দেখা যায় ২২.১ ওভারে। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের পাশে থেকে ক্রমেই এগোতে থাকে বাংলাদেশ। মুমিনুল ৬০ বলে ৩০ রান করে খুররম শাহজাদর বলে আউট হলে দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। দিনশেষে শান্ত ৩২ বল খেলে ১৩ রানে অপরাজিত আছেন।
এর আগে পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপ বাংলাদেশের ঝড়ে টিকে থাকতে পারেনি। তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানার তিনটি করে উইকেট আছে। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট তুলে নেন। চার বোলারের ধারাবাহিক গতিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের দখলে আসে।
দিনের শুরুতেই তাসকিন আব্দুল্লাহ ফজলকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন। এরপর মিরাজ শান মাসুদ ও সাউদ শাকিলকে সাজঘরে পাঠান। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই চারে পড়ে যায় পাকিস্তান। চাপে থাকা বিশ্বের অন্যতম ব্যাটার বাবর আজম একপাশ ধরে দলকে টেনেও চলেছিলেন; ধীরগতিতে খেলা এই ব্যাটিংয়ে তিনি ৬৮ রানের অর্ধশতক করেন। তবে বিরতির আগে নাহিদ রানার এক ভিন্ন গতির বল খেলতে গিয়ে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে বাবরের ইনিংস থেমে যায়।
বাবরের বিদায়ের পরও পাকিস্তানের শেস দলের বড় জুটিগড়ার চেষ্টা থামান তাইজুল। সালমান আলী আঘা, রিজওয়ান ও হাসান আলীকে দ্রুত ফেরিয়ে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগই দেননি সফরকারীদের। চা-বিরতির পরে নাহিদ খুররম শাহজাদকে ফিরিয়ে আঘাত ঘাঁকমান এবং পরে সাজিদ খানকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংসের সম্পূর্ণতা ঘিরে দেন—শেষ পর্যন্ত তারা ২৩২ রানে অলআউট হয়।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে লিটন কুমার দাসের সাহসী লড়াই নজর কাড়ে। দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর পর একপ্রান্তে টিকে থেকে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক তুলে নেন—১২৬ রানের ইনিংসে ১৬ চার ও দুই ছক্কা ছিল তার। নিচুতলায় থাকা ব্যাটারদের সহায়তায় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে পৌঁছায়। পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ চারটি এবং মোহাম্মদ আব্বাস তিনটি উইকেট নেন।
দুই দিক থেকেই বাংলাদেশ দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলছে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে দেখা গেছে। আগামীদিনে ম্যাচে কোন মোড় আসে সেটাই এখন দেখার বিষয়।