1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যা করে লাশ টুকরা-মর্ষ: স্ত্রী ক্যামেরায় ঘটনার বর্ণনা স্বীকার

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় এক নারী শ্বশুরবাড়ির বরের বিরুদ্ধে ঝগড়ার পর তাকে হত্যা করে লাশ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়েছেন—এমন এক ঘটনার বর্ণনা রেকর্ডে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৫ মে) রাত প্রায় ১০টার দিকে আটং বৃক্ষতলা সড়কের পাশ থেকে মাথাসহ মরদেহের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতকে এলাকার মানুষ ও পরিবার জিয়া সরদার (৪০) বলে চিনেছেন। তবে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে জয়নাল আবেদীন নামে পরিচিত বলছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম ঘটনার বিবরণ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

ওসি জানান, ঘটনার পেছনে দাম্পত্য বিরোধ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কই মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। আসমা বেগম নামের ওই নারী পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার জুপিয়া গ্রামের সোলেমান শেখের কন্যা। তার প্রথম বিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া উপজেলার আসাদ তালুকদারের সঙ্গে হয়েছিল; ওই ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। পরে ২০১৯ সালে আসমা গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন—মালয়েশিয়ায় থাকা জয়নালের সঙ্গে। দুজন ভাড়া বাসায় বিভিন্ন জায়গায় থেকেছেন এবং প্রথম স্ত্রীকে ওই সময়ে ডিভোর্সও করা হয়েছিল।

পুলিশের গল্প অনুযায়ী, আসমা ও জয়নালের সম্পর্ক মোবাইল ফোনে গড়ে ওঠে; একপর্যায়ে তারা একসঙ্গে চন্দ্রপুর বাজারের ভাড়া ঘরে থাকতেন। গত ১২ মে (মঙ্গলবার) গভীর রাত্রে দুই জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়—জয়নালের অন্য কোন মেয়ের সঙ্গে কথাবার্তা নিয়ে তর্ক লেগে যায়। প্রতারণা বা অন্য নারীকে নিয়েই বিরোধ বাড়ে এবং তর্কের এক مرحلةে আসমা বাড়ির পাশে রাখা একটি রড দিয়ে জয়নালকে আন্দাজ করা হয় মারেন; তিনি অচেতন হন। পরে তিনি আরও আঘাত করেন এবং পরের দিনে ছুরি দিয়ে দেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা করেন বলে পুলিশ জানায়। পেট কেটে অন্ত্র একটি ড্রামে ভরেন; শুধু মাথা অক্ষত রাখা হয়েছিল।

ওসি শাহ আলম আরও জানিয়েছেন, মরদেহ টুকরা করে ফেলার চেষ্টা করতে গিয়ে শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় আসমা বিভিন্ন টুকরো ব্যাগ ও ড্রামে ভরে টুকরো টুকরো করে নড়িয়া নদীর পাড়, মাছের ঘের ও এক চিকিৎসকের বাসার পাশে রাখেন। কিছু অংশ অটোরিকশা ও রিকশায় নিয়ে ফেলা হয়। এক চিকিৎসক ড্রামের গন্ধ পেয়ে পুলিশকে জানায়; এরপর পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে আসমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন। পুলিশ আসমাকে গ্রেফতার করেছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত রড, ছুরি ও একটি ড্রাম জব্দ করা হয়েছে।

ওসি জানান, আসমা প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে তার বিবরণে অনৈহিকতা বা বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যায়নি। বর্তমানে উদ্ধারকৃত খণ্ডিত অংশগুলো ফরেনসিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে জানান হয়েছে; পরিবার তদন্তপূর্বক এজাহার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনাস্থল এবং পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসমা ক্যামেরার সামনেও ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, কথাকাটাকাটির সময় রড দিয়ে আঘাত করলে জয়নাল দ্রুত মারা যান—সে কথা তিনি বুঝতে পারেননি। পরে তিনি নিজেই ছুরি দিয়ে দেহ কাটছেন এবং নড়িয়া নদীর পাড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। আসমা জানিয়েছেন, তিনি আগে কখনও এমন কোনো অপরাধ করেননি, নিজের করা কাজকে তিনি ‘ভাগ্য ও শয়তানের প্রভাব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

ঘটনাটি তদন্তাধীন; পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষদর্শী-নিয়মিতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা ও আহত বা আহত পরিবারের তরফে মামলা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo