বাবর আজমের একোক ইনিংস ছাড়া ম্যাচের অধিকাংশ সময়েই নিয়ন্ত্রণই ছিল বাংলাদেশের হাতে। স্বাগতিকদের বড় লিড পাওয়াই ছিল স্বাভাবিক। তবুও অলআউটের আগে পাকিস্তান সেভাবে পাল্টা আঘাত দিয়েছিল — নয় নম্বরে নামা সাজিদ খান ২৮ বল খেলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে ব্যবধান অনেকটা কমিয়ে দেন। সব মিলিয়ে সফরকারীরা ২৩২ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড নিয়ে এগোয়।
পাকিস্তানের রানখাতায় সেরা একক ইনিংস ছিল বাবরের: ৮৪ বল খেলে ১০টি চারের সাহায্যে তিনি করেন ৬৮ রান। তবে বাকিদের কাছে ব্যাটারদের ব্যাহত করা রোজগারী ছিল বাংলাদেশের বোলারদের। নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম প্রত্যেকেই তিনটি করে উইকেট তুলে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদ প্রথম আঘাত করান; আব্দুল্লাহ শফিকের ব্যাটের কানায় লেগে বল লিটন দাসের কাছে যায় আর লিটন বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে দুই হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে দলকে উৎসাহ দেন। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইস টিকে থাকতে পারেননি; দেরিতে সুইং হওয়া বলে বিভ্রান্ত হয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ বলে মাত্র ১৩ রান করে ফিরে যান তিনি।
এরপর শান মাসুদ ও বাবর আজম মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন, তবে বাংলাদেশি বোলাররা ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে থাকেন। শরীফুল ইসলামের একটি বল বাবরের ব্যাট ছুঁয়ে লিটনের মাথার ওপর দিয়ে বেরিয়েও আসে—একটু ভয়ে ভরে যাওয়া মুহূর্ত ছিল। নাহিদের একটি দ্রুতগতির বলে শান মাসুদের প্যাডে আঘাত হলে বাংলাদেশ রিভিউ নেয়, কিন্তু রিভিউতে প্রমাণিত হয় বল প্রথমে ব্যাটে লেগেছে, ফলে আউট হয়নি।
তবুও ওই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। মিরাজকে এনে দ্রুত পোড়ানো আক্রমণ চালানো হয়; মিরাজের প্রথম ওভারেই শান মাসুদ ২১ রানে আউট হন, শর্ট কাভারে নাঈম হাসানের হাতে সহজ ক্যাচ দেন তিনি। পাকিস্তান তখন ৬১ রানে ৩ উইকেট হারায়। পরের দিকে সৌদ শাকিলও সুযোগে সুইপ খেলতে গিয়ে বল উপরে তুলে দেন এবং লিটনকে সহজ ক্যাচ করতে হয়; সাজঘরে ফেরার পর পাকিস্তান বড় বিপর্যয়ে পড়ে।
এর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। সবশেষে পাকিস্তান ২৩২ রানে অলআউট হয় এবং বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের সুবিধা নিয়ে ম্যাচ এগিয়ে নেয়।