নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্ট যে জামিন দিয়েছেন, সেটি আপিল বিভাগ বহাল রেখেছে। বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই হত্যার মামলায় শুনানি করে চেম্বার বেঞ্চের বিচারপতি মো. রেজাউল হক রোববার (১৭ মে) এ আদেশ দেন।
আগস্টের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করার আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন। আইভীর পক্ষে যুক্তি দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান; সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান।
এর আগে ১০ মে আপিল বিভাগ আইভীর ১০টি মামলায় হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখেছিল। ওই দশটির মধ্যে ছয়টি হত্যা মামলা, বাকিগুলো পুলিশি ওপর হামলা, সহিংসতা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হয়েছিল। আজকের আদেশের ফলে মোট ১২ মামলায় আইভীর জামিন বহাল রয়েছে এবং তার কারামুক্তির পথে আর আইনি বাধা রইল না বলছেন তার আইনজীবীরা।
এই দুই মামলা নিয়ে হাইকোর্ট ৩০ এপ্রিল রুল জারি করে আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন স্থগিতের জন্য পৃথকভাবে আবেদন করেন এবং দুটি আবেদন 이날 চেম্বার কোর্টের কার্যতালিকায় ৪১ ও ৪২ নম্বরে উঠেছিল।
শুনানির পর আইভীর আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান বলেন, আপিল বিভাগের আদেশের কপি কারা বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘প্রয়োজনে আজই অফিস ফাইল পাঠানো হবে; আশা করছি এই সপ্তাহেই তিনি মুক্তি পাবেন।’’
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিজ বাড়ি থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মোট ১২ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়; এসব মামলার অনেকটিতেই এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। আইনজীবীরা জানান, এসব অভিযোগের মধ্যে সাতটিতে তার নাম সরাসরি এজাহারে নেই।
আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে জয়ী হন।