খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)‑এ শনিবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় দাবা প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬’’ দ্রুত উৎসাহের সঙ্গে শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতাটি পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত, যেখানে দেশের মোট ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, ‘‘দাবা এমন একটি বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা, যা মানুষের চিন্তাশক্তি, ধৈর্য, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও দূরদর্শিতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল হতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; সৃজনশীল চিন্তা, কৌশলগত পরিকল্পনা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও জরুরি। দাবা সেই দক্ষতা গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।’’
পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা দেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ও ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মাহমুদুল আলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপ-পরিচালক ও আয়োজক কমিটির সদস্য-সচিব রাজন কুমার রাহা, প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আক্তার (প্রোভোস্ট, খানজাহান আলী হল) এবং বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য-সচিব মোঃ মাহবুবুল আলম।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা বলছেন, এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌশলগত চিন্তা ও মানসিক তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।