1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু: ঋণাত্মক অর্থনীতি থেকে বের হতে লাগবে অন্তত ২ বছর

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে এবং তা পূর্ণরূপে স্থিতিশীল করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি এই মন্তব্য করেন শনিবার (১৬ মে) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে।

মন্ত্রী জানান, আগের কয়েকটি সরকার দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল ও ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে গেছে। সেই অস্থিতিশীলতার সঙ্গে যোগ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত সংঘাতের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা, যার প্রভাব বিশেষভাবে পড়েছে জ্বালানি খাতে। তিনি বললেন, কেবল জ্বালানি খাতেই আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় দেখা দিয়েছে।

এছাড়া বিদ্যুৎ খাতের ব্যয়সহ বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে গত দুই মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে মন্ত্রী অভিযোগ করেন। সব মিলিয়ে দেশের জাতীয় অর্থনীতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে আছে, এবং এই ঋণাত্মক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারেরকে সময় ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে কথা বলছেন তিনি, বললেন আগের সরকারের সময় বরাদ্দের একটি বড় অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অপচয়ে জড়িয়েছে। এজন্য বর্তমান সরকার কেবল বরাদ্দ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করবে না, বরঞ্চ সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে অতীতে বিভিন্ন সরকার মেডিকেল কলেজ ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অযথা হস্তক্ষেপ করেছে, যা সেবা ও শিক্ষার মানে ক্ষতিসাধন করেছে। বর্তমান সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে যোগ্যতা ছাড়া কাউকে ভর্তি করা বা রাজনৈতিক বিবেচনায় ভর্তি নীতি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

মেডিক্যাল শিক্ষার মান ধরে রাখতে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঠিক অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি; এসব প্রস্তুতি ছাড়া আসনসংখ্যা বাড়ানো উচিত নয়। দেশজুড়ে দক্ষ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের তীব্র ঘাটতির কথাও তিনি তুলে ধরেন এবং এজন্য মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।

অন্যদিকে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার; দীর্ঘদিন বহু মানুষ এ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় এনে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে; রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে তাদের বিল সরকার পরিশোধ করবে।

শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং ক্রীড়া- বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও মন্ত্রী জোর দেন। তিনি বললেন, বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠায় মেডিক্যাল শিক্ষায় আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ অত্যাবশ্যক।

অবশেষে অর্থমন্ত্রী পুনরাবৃত্তি করেন যে সরকার দেশের ঋণাত্মক অর্থনীতি থেকে বের হয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক সেবা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সময় লাগবে, তবে প্রয়োজনীয় অর্থ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার ও সুশাসন নিশ্চিত করে সরকার উন্নতির লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo