আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত দুই গোলে ব্রাজিলকে ২-১ গলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল নরওয়ে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে শেষ ষোলোতেই বিদায় জানিয়ে নরওয়ে লেখল ফুটবলের একটি বড় অধ্যায় — এবং ব্রাজিল ৩৬ বছর পর এই রাউন্ড থেকেই ছিটকে গেল।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। শুরু থেকেই উত্তেজনা থাকলেও প্রথম বিভাগেই নরওয়ে বিপদ ডেকে আনেননি — চার মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গ আলিসনকে ফাঁকি দিয়ে গোল করেন, কিন্তু অফসাইড থাকায় তা বাতিল করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মন-মেজাজ শান্ত হয় এবং ম্যাচের আগের ধারণার মতোই ল্যাটিন আমেরিকার দল একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে।
ম্যাচের ১০ মিনিটে ডি-বক্সের ভিতরে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল হওয়ায় রেফারি পেনাল্টি দেন। শট নেওয়ার দায়িত্ব নেন ব্রুনো গুইমারেস — কিন্তু নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ড এক সাহসী সেভ করে ব্রাজিলের পেনাল্টি মিস করে দেন। পেনাল্টি মিসের পরে ব্রাজিল বড় বড় আক্রমণ চালালেও প্রথমার্ধ গোলরহিত সমাপ্ত হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে দল দুই পরিবর্তন এনে নতুন শক্তি যোগায়; আক্রমণ ও প্রতিরক্ষায় তারা বেশ সুসংগঠিত থাকল। ৫৮ মিনিটে কোচ আনচেলত্তি ম্যাথিউস কুনহাকে নামিয়ে এন্দ্রিককে মাঠে পাঠান। এন্দ্রিকের মাঠে নামার প্রথম সুযোগেই ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ পাস পেয়ে মাত্র গোলরক্ষককে সামনে পেয়ে টোকা মারার চেষ্টা করে, কিন্তু বল গোলবারের সাইড দিয়ে চলে যায়—একটি বড় সুযোগ মিস হয় ব্রাজিলের।
এরপরও বেলা-বেলায় ব্রাজিল আক্রমণ করতে থাকলেও নরওয়ের রক্ষণ ভেঙে পড়তে দেয়নি; দুই দলের মাঝে লড়াইটা ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। ৭৯ মিনিটে সেই মুহূর্তটা এল, যা পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেয়। ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড দুর্দান্ত হেড দিয়ে আলিসনকে পরাস্ত করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন — ১-০।
তারপরের দশ মিনিটের মধ্যে হালান্ড আবারও ব্রাজিলের জালে বল পাঠান এবং দলের ব্যবধান বাড়িয়ে দেন; একই রকম বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সে হালান্ড নরওয়ের ইতিহাস গড়ে দেন। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল করে ব্রাজিলের জন্য সমালোচনার আঁচ কিছুটা কমালেও খেলায় ফেরত আনার জন্য সময় আর থাকল না। ফলাফল ২-১ এবং নরওয়ে সেভাবে জয় নিশ্চিত করে।
এই ফলাফলের সঙ্গে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন থমকে গেল এবং তাদের মর্যাদা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে আর্লিং হালান্ডের দানবীয় পারফরম্যান্স নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করল — তারা এবার কোয়ার্টার ফাইনালে।
ম্যাচের দিক থেকে দেখা গেলে ব্রাজিল অনবরত আক্রমণ করেছিল, কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্ট ও নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যান্ডের সিওভাইজবী রুখে দিয়েছেন তাদের চেষ্টা সফল হতে দেননি। প্রতিপক্ষের নির্ভুল কনট্রা-অ্যাটাক ও হালান্ডের ক্লাসই এ দিন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করল।