বিশ্বকাপে মাঠের উত্তেজনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠের বাইরেও তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন কৌতূহল — সেটা কোনো বিশ্লেষক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, এক পোষ্য বিড়াল। সামাজিক মাধ্যমেই পরিচিতি পাওয়া মিলু এবার হলো আলোচনা কেন্দ্রবিন্দু: সে বলছে, নরওয়েকে হারিয়ে ব্রাজিল উঠবে টুর্নামেন্টের শেষ আটে।
মিলু আগেকার কয়েকটি ম্যাচে সফল ভবিষ্যদ্বাণীর কারণে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একের পর এক পূর্বাভাস মিলে যাওয়ায় অনেক ফুটবল সমর্থকের কাছেই এটি কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও শনিবার আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচে প্রথমবারের মতো মিলুর পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছিল, তবু ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের আগে আবারও নিজের ‘রায়’ দিয়েছেন সে।
মিলুর নির্বাচন অনুযায়ী ব্রাজিল এগিয়ে রয়েছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জয়ের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে—এমনটাই মিলুর ভবিষ্যদ্বাণী।
মিলুর মালিক নাতান পিনহেইরো জানিয়েছেন, প্রতিটি ম্যাচের আগে দুটি একই ধরনের বাটিতে খাবার রাখা হয় এবং প্রতিটি বাটির পেছনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পতাকা রাখা হয়। মিলুকে ছেড়ে দেওয়া হলে সে যে বাটি থেকে আগে খাবার খায়, সেই দলকেই সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ধরা হয়। নাতান বলছেন পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও প্রকাশ করা হয়, তাই সেখানে কারসাজির কোনো সুযোগ নেই এবং মিলুই নিজ ইচ্ছায় বাটি নির্বাচন করে।
তবে এই পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা কম छैन। অনেকে দাবি করছেন, বিড়ালটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট বাটির দিকে পরিচালিত করা হতে পারে। নাতান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে ভিডিও নিশ্চিতভাবে প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখে।
সামাজিক মাধ্যমে মিলুকে নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এক ব্রাজিল সমর্থক জানিয়েছেন, জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে দল পিছিয়ে পড়লেও তিনি মিলুর পূর্বাভাসে আস্থা রেখেছিলেন এবং তা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছিল — তাই এবারও তিনি মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীতে ভরসা করছেন। অন্য কেউ এটাকে হাস্যকর বিনোদন হিসেবে নিচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন এটা টুর্নামেন্টের মজার এক অংশ।
ফুটবল বিশ্ব ও দর্শকেরা এখন দেখবেন, কি করে মিলুর এই নতুন পূর্বাভাস বাস্তবে প্রমাণ হয় কি না। মাঠের লড়াই তো শুরুই হবে—সেই লড়াইয়ের শেষে মিলুর ‘রায়’ কতটা সত্যি দাঁড়ায়, সেটাই এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।