1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

শান মাসুদ বরখাস্ত, টেস্ট অধিনায়কত্বে ফিরলেন বাবর আজম

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) শান মাসুদকে টেস্ট দলের অধিনায়ক পদ থেকে সরিয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট নেতৃত্ব পেয়েছেন বাবর আজম—এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় চলতি মাসের শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণা করার সময়।

শান মাসুদের বিদায় পাকিস্তান ক্রিকেটে এক হতাশাজনক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাসুদের অধীনে ১৬টি টেস্টে মাঠে নামা পাকিস্তান ১২টিতেই হেরেছে—টেস্ট ইতিহাসে নিজের প্রথম ১৬ টেস্টের মধ্যে এত বেশি হার দেখেননি কোনো অধিনায়ক। দল টানা সাতটি টেস্টে হেরে যা দেশটির ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ হার হিসেবে রেকর্ডে গেছে।

মাসুদের অধিনায়কত্ব শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি কঠিন সিরিজ দিয়ে, যেখানে পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। এরপর ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে ২-০ দিয়ে হারার ঘটনাটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট সিরিজ হার। মাসুদের অধীনে একমাত্র উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল একই বছরে ইংল্যান্ডকে কড়া লড়াই করে পরাস্ত করে সিরিজ জয়—তবে মোট সাতটি সিরিজের মধ্যে সেটিই একমাত্র জয়, বাকি চারটিতে পাকিস্তান সিরিজে হেরেছে। এর ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৩-২৫)-এর পয়েন্ট টেবিলে পাকিস্তান নীচের সারিতে আটকে গেছে।

ব্যক্তিগতভাবে শান মাসুদ অধিনায়ক থাকলে ও ভালো ব্যাটিং করেছেন; অধিনায়ক হওয়ার পর তার টেস্ট গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪.০৬, যা দায়িত্ব নেওয়ার আগে (২৮.৫১) থেকে প্রায় ছয় রান বেশি। এই সময়ে তিনি করেছেন দুটি সেঞ্চুরি (তাদের মধ্যে একটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে) এবং সাতটি হাফ সেঞ্চুরি, যার মধ্যে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এক ম্যাচে দুটি ফিফটির ঘটনা ছিল চোখে পড়ার মত।

পিসিবি এবার আবার বাবর আজমের দিকে ফিরে গেছে—জ্যেষ্ঠ, অভিজ্ঞ ও পরিচিত নেতৃত্বের দিকে—যদিও এই সিদ্ধান্তই বলছে যে টেস্ট দলের জন্য উপযুক্ত বিকল্পের সন্ধান সীমিত ছিল। ২০২৩ সালে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর থেকে বাবর তিন ফরম্যাটেই মানসিক ও রানের খরায় ভুগেছেন; বিশেষ করে টেস্টে মাসুদের অধীনে তাঁর গড় ছিল মাত্র ২৭-এর কিছু বেশি।

তবুও অধিনায়ক হিসেবে বাবরের পুরনো ভাণ্ডার শক্তিশালী। পূর্বের মেয়াদে তিনি ২০টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে টিমকে ১০টিতে জিতিয়েছেন। তাঁর অধীনে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারানো, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ করার মতো কীর্তি ছিল। সেই সময়ে বাবরের ব্যক্তিগত টেস্ট গড় ছিল ৫০-এর ওপরে। তবে তার মেয়াদেও বড় ধাক্কার ভাগ্য ছিল—তাদের মধ্যে সবচেয়ে জোরালো ধাক্কা ছিল ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ, যা পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে এক নজিরবিহীন লজ্জার ঘটনা।

এখন জটিল সূচি থেকেই বাবরকে আবার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পরপরই পাকিস্তান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ডে—পাঁচ বছর নয়, ছয় বছরের মধ্যে সেখানে তাদের প্রথম সফর। এরপর বাড়তি ব্যস্ত শীতকালীন মরসুমে ঘরে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টেস্ট সিরিজ রয়েছে, যা দলের জন্য কঠিন পরীক্ষার সারি।

পিসিবির লক্ষ্য হবে দ্রুত দলকে স্থিতিশীল করে তোলা এবং সিরিজগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য একাদশ গঠন করা। বাবরের নেতৃত্বে এখন প্রশ্ন থাকবে: তিনি কি পুরনো ফর্ম ফিরিয়ে এনে টিমকে ধারাবাহিকতা দিতে পারবেন, নাকি পাকিস্তানকে পারফরম্যান্সে আবারও কাঁপাতে হবে? সামনে যে সিরিজগুলো, সেগুলোই এই নতুন—ও আবার পুরনো—অধিনায়কত্বের সুফল বা সীমাবদ্ধতা ঠিক করবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo