টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের নানা স্থানে পাহাড় ধসে রাতভর দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ি ঢলে লোকজন মাটিচাপে চাপা পড়ে প্রাণ হারান।
ভোর সাড়ে চারটার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ের অংশ ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর (৫০) এর বসতঘর চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন। তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনার সময় একই পরিবারের আরো দুজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাত তিনটার দিকে ঘটে আরেক মারাত্মক ধস; সেই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং এক জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন — আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।
এর আগে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্প (ডি/৭) এলাকায় রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে পাহাড়ি ধসে সাত বছর বয়সী একরাম (আব্দুর রশিদের ছেলে) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
অন্যদিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পাহাড় ধসে আশ্রিত রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও পুত্র মোহাম্মদ আনাস (৪) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, এসব ঘটনা প্রায় একই সময়ে ঘটেছে এবং রাতভর উদ্ধার অভিযান চলছে; নিহতদের মরদেহ উদ্ধার ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা প্রশাসন বলছে, টানা বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করে বাসিন্দাদের বারবার জানানো হচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যে কক্সবাজারে গত ২৪ ঘন্টায় ১৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারী বর্ষণ হচ্ছে এবং আগামী দুই দিন পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
রাতভর চালানো উদ্ধারকাজ, মৃত্যুবরণকারীদের পরিচয়পত্র যাচাই ও বাদী-আহতদের খবর নেয়া হচ্ছে; প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজর রাখছেন। সাধারণদের সতর্ক থাকার ও নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার অনুরোধ করা হয়েছে।