বরিশালে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ওপর অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই করানোর অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (৫ জুলাই) তাকে বরিশাল থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর বরিশাল সদর রোডে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরপর ভাইরাল হলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়—আবদুল আজিজ হাওলাদারের কক্ষে চারজন যুবক ঢুকছেন; তাদের মধ্যে লিটু নামের এক যুবক আজিজকে মারধর করেন এবং এক পর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চিত্র দেখা যায়।
ভিডিওতে আক্রান্ত ব্যক্তি কণ্ঠে ‘বাচ্চু—বাচ্চু’ বলে সাহায্য ডাকেন। ডাক শুনে যখন আরেকজন কক্ষে ঢুকেন, তখন লিটুর সঙ্গীরা তাকে ঠেলাঠেলি করে বের করে দেন। পরে চেক ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের ছবি তোলা হয়। ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ অভিযোগ করেছেন যে লিটু ও তার সঙ্গীরা দুইটি চেকে তার সই কুচকানোভাবে নেন, স্ট্যাম্পেও সই করানো হয় এবং এসময় তারা গালিগালাজ ও হুমকি-ধামকি দেন; বারবার সামলানোর চেষ্টা করেও সই নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
ভিডিও ছড়ানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে লিটুর রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হলে যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না তা খণ্ডন করেন। রোববার দুপুরে নিজের ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে মুন্না বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বরিশাল মহানগর যুবদলের কোনো পদে ছিলেন না এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে যুবদলকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে।
মুন্না পুলিশ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত ও আইনের আওতায় অভিযুক্তদের আনার আহ্বানও জানান। পুলিশের অভিযান শেষে রবিবার লিটুকে বরিশাল থেকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা ও তদন্ত এখনও চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার সাক্ষ্যভিত্তিক ভিডিও ও আক্রান্তের বিবরণে অনলাইনে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন বলে প্রত্যাশা করছেন বিভিন্ন মহল।