আড়ালে পড়ে থাকা লিওনেল মেসি বা কিলিয়ান এমবাপে কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ছায়া কেটে নিজের গল্প লেখা শুরু করেছেন আর্লিং হালান্ড। অভিষেক বিশ্বকাপে রূপকথার মতো পারফরম্যান্স করে তিনি এখন ৭ গোল করে গোল্ডেন বুট দৌড়ে মেসি ও এমবাপের সমকক্ষ হয়েছেন — এবং একই সঙ্গে ইতিহাস গড়লেন: একই বিশ্বকাপে তিনজন ফুটবলারেরই ন্যূনতম ৭ গোলের মাইলফলক দেখা গেল впервые।
গত রাতেই (রোববার) পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ল নরওয়ে। হালান্ডের জোড়া গোলে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা ২-১ ব্যবধানে জিতেই প্রথমবারের মতো উঠল কোয়ার্টার ফাইনালে। এই জয়ে বিশ্বমঞ্চে নরওয়ের অবস্থান নিজের চোখে দেখা কল্পনার মতো বলে মনে হচ্ছেন হালান্ডকে।
৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই ম্যানচেস্টার সিটি ফরওয়ার্ড জাতীয় দলেও গোলমেশিন হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় জার্সিতে তিনি অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন — শেষ কয়েক ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে গোল করে দলের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জোড়া গোলসহ এখন পর্যন্ত তার সংগ্রহ দাঁড়িয়ে ৭ গোলে, যা তাকে গোল্ডেন বুট প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগণ্য করে দিয়েছে।
বিশ্বকাপ এখনও মাত্র শেষ ষোলো পর্যায়ে, তবু এক আসরে তিন ভিন্ন খেলোয়াড়েরই সাত কিংবা ততোধিক গোল হওয়া ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় চমক। একই রেকর্ড হিসেবে এর আগে কেবল পোল্যান্ডের গ্রেজেগর্জ লাতোর নাম তুলে ধরা হয়েছিল (১৯৭৪)। আকর্ষণীয় ব্যাপার হলো — মেসি, এমবাপে ও রোনালদোরা তাদের নিজের অভিষেক বিশ্বকাপে মিলিয়ে এতগুলো গোল করেও এই মাইলফলক স্পর্শ করেননি।
অন্য কিছু কীর্তিও এই টুর্নামেন্টে হালান্ডের নামে জুড়ে গেল। এটি হালান্ডের তৃতীয় ম্যাচ যেখানে তিনি একাধিক গোল করেছেন — যা এক আসরে একাধিক গোলের ধারায় তৃতীয় সর্বোচ্চ। কেবল জাস্টিন ফন্টেইন (১৯৫৮) ও শ্যান্ডর কোচসিস (১৯৫৪) এই মাপদণ্ডে এগিয়ে আছেন। এছাড়া ব্রাজিলের বিপক্ষে এক ম্যাচে জোড়া গোল করা খেলোয়াড় হিসেবে তিনি তৃতীয় (এর আগে টনি ক্রুস ও আন্দ্রে শুরলে এই কীর্তি করেছিলেন)।
আরও একটি নজরকাড়া রেকর্ড: হালান্ড বিশ্বকাপ ইতিহাসে কেবল চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে এক আসরে ন্যূনতম চারটি জয়ের গোল করেছেন। একই স্তরে থাকা অন্য খেলোয়াড় দু’জন হলেন সালভাতোর শিল্লাচি ও গার্ড মুলার; আর গ্রেজেগর্জ লাতো এক আসরে পাঁচটি জয়সূচক গোল করে একধাপ এগিয়ে ছিলেন।
এতো চমক আর কির্তি দেখে বলা যায়, এই বিশ্বকাপ এখনও আরো বিস্ময় দেখাতে পারে। হালান্ড-নরওয়ের এই রোমাঞ্চকর অভিযান পরবর্তী রাউন্ডে কতদূর যাবে— সেটাই এখন ফুটবলবিশ্বের আকর্ষণীয় প্রতীক্ষা।