২০১৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যে পরকীয়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো অপরাধ নয় — যদি বিবাহিত পুরুষ বা মহিলা স্বেচ্ছায় পরকীয়ায় লিপ্ত হন, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। তবু পরিবারিক বিবাদ ও বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে পরকীয়ার উপস্থিতি প্রমাণ করা গেলে তা বিবেচ্য হতে পারে।
৭–৮ বছর পর এই বিষয়ে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, শুধু ফোন কল রেকর্ড বা হোটেলের বিলই পরকীয়ার প্রমাণ হিসেবে প্রত্যক্ষভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। তার মানে, যদি কোনো স্ত্রী বা স্বামী অভিযোগ করে থাকে যে তার সঙ্গী পরকীয়ায় লিপ্ত, তাহলে ওই সঙ্গীর কল রেকর্ড ও হোটেলের বিল আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে এবং তিনি সেগুলো দেখতে চাইলে তা দেখার অনুমতি মিলবে।
এই পর্যবেক্ষণটি এসেছে একটি মামলার শুনানিতে। মামলাটির অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাজস্থানের জয়পুরে এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার পাশাপাশি পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে স্বামীর কল রেকর্ড ও হোটেলের বিল দেখলে পরকীয়ার কথা প্রমাণিত হবে।
প্রথমে ওই নারী পারিবারিক আদালতে বিচ্ছেদ মামলা করেন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছিলেন। কিন্তু মামলা চলাকালীন সময়ে হোটেলের ডেটাবেস থেকে সেই ফুটেজ মুছে গেলে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে পারিবারিক আদালতকে স্বামীর কল রেকর্ড ও হোটেলের বিল সংগ্রহ করে সিল করা খামে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়ার আবেদন করেন।
অভিযুক্ত স্বামী এই নথি প্রকাশ করার বিরোধিতা করেন এবং দাবী করেন যে এগুলো প্রকাশ করা হলে তার মৌলিক অধিকারগুলো লঙ্ঘিত হবে। বিষয়টি হাই কোর্ট ছাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়।
বুধবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ — বিচারপতি শীর্ষ মনমোহন ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন — অভিযুক্ত স্বামীর যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন যে ফোন কল রেকর্ড ও হোটেলের বিল পরকীয়ার প্রমাণ হতে পারে। এ ঘটনায় দিল্লি হাই কোর্টও পর্যবেক্ষণ করেছিল যে ওই নারী কেবল নিজের অভিযোগ সমর্থনে কিছু প্রমাণ চেয়েছেন, তাই সেই তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়; সুপ্রিম কোর্টও সেই মতের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছে।
সংক্ষেপে, যদিও ২০১৮ সালে পরকীয়া অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবু পরিবারের মধ্যে চলা বিচারে সে সম্পর্কিত নথি — যেমন কল রেকর্ড বা হোটেল বিল — প্রমাণপত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং আদালত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওই নথি দেখতে বা জমা দেয়ার অনুমতি দিতে পারে।