২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী সহিংসতা, জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না—এমন দুর্বলতাকে খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে জনসমাবেশ, প্রদর্শনী ও উদযাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউড স্পিকার ব্যবহারের ওপর নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত্রি ১১টার পর অবৈধ উচ্চশব্দ ও আতশবাজি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার দাবি জানান হয়েছে। আরও দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষ বা বিরোধ দেখা দিলে সেখানে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ রিট দাখিল করেন। রিটে সংযুক্ত একটি পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এবারে বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশে মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন। আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাতে অধিক শব্দে আতশবাজি ও উচ্ছ্বাসের কারণে শিশু-বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে এবং এই অবস্থায় জনজীবন ও নিরাপত্তার গুরুতর ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
রিটে উদ্ধৃত করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিকভাবে গর্জন চলছে; বাংলাদেশে যদিও দল খেলছে না, তবু সমর্থকদের উত্তেজনা কম নয়। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বাগ্যুদ্ধ কখনো কখনো গড়ে উঠে প্রাণঘাতী সংঘাতে। প্রতিবেদনের তথ্যে বলা হয়, নানা ঘটনায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন; এর মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে এবং অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া রিটে বিশেষ করে কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় ব্রাজিল সমর্থক মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্যক্তির হত্যা ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়। ওই ঘটনা গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নে ঘটেছিল। ওই হলো ওই সংবাদ সূত্রে প্রকাশিত মৃত্যুর মধ্যে একটি, ফলে মোট সংখ্যা ১১টি পৌঁছেছে—রিটে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম যোগাযোগব্যবস্থায় বলেন, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে সেসব স্থানে ডিবি নজরদারি বাড়াবে।
সমাজ ও অপরাধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা মানসিক ও সামাজিক বিনোদনের অংশ—এখানে জয়-পরাজয় থাকবে; কিন্তু আমাদের সমাজে জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতার অভাব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সমস্যা শুধুমাত্র ক্রীড়াক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও জনগণের মধ্যে পরাজয় গ্রহণ করার মানসিকতার ঘাটতি রয়েছে, যা সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দিতে পারে।
রিটে আদালত থেকে নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত নির্দেশনা জারির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যাতে বিশ্বকাপ উৎসব উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করা যায়।