যশোরের একজন বিশেষ জজ আদালত ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পিকআপ চালক মুক্তার হোসেনকে ফেন্সিডিল মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ফেন্সিডিল বহনে ব্যবহার করা পিকআপটি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রায়টি বৃহস্পতিবার যশোরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলাম ঘোষণা করেন, বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার এপিপি আনিসুর রহমান পলাশ।
সাজাপ্রাপ্ত মুক্তার হোসেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নাটাবাড়িয়া গ্রামের একিম আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জের তেলকুপি গ্রামের রেজাউল শেখের ঘরজামাই হিসাবে বসবাস করতেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে বেনাপোলের রঘুনাথপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা নারায়ণপুর ত্রিপুরাপাড়া ব্রিজ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালান।
অভিযানে এক টন ধারণক্ষমতার কাভার্ড পিকআপকে থামিয়ে তল্লাশি করা হলে গাড়ির ভেতরের বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে ৯১০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। ওই মুহূর্তে চালক মুক্তার হোসেনকে আটক করে বিজিবি এবং ফেন্সিডিল বহনে ব্যবহৃত পিকআপ জব্দ করা হয়। পরদিন বিজিবি হাবিলদার মামুনুর রশিদ বেনাপোল পোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন এবং তদন্ত শেষে থানার পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রক্রিয়ার পর আদালত মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম সাজা দেন। একই সাথে বিষয়ে ব্যবহৃত পিকআপটি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত মুক্তার হোসেন বর্তমানে কারাগারে ছিলেন।