ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে মোট ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাত দিয়ে বুধবার (৮ জুলাই) এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, দেশটির নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে এবং হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েইেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ঘাঁটি এবং কুয়েতে আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে।
আইআরজিসি আমাদের কাছে জানায়, এই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের আগে করা নানান হামলা ও চুক্তিভঙ্গের জবাব হিসেবে নেয়া হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি ও মাহশাহরের উপকূলীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়—যার প্রতিশোধ হিসেবে এবার প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেন, ওয়াশিংটন তাদের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার দাফন সংক্রান্ত ঘটনাগুলোকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে এবং সেই প্রেক্ষিতে তারা জবাব দেয়া অনিবার্য বলে মনে করেছে।
একই সঙ্গে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া জানিয়েছে, তারা ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের’ কোনো জবাব ছাড়া ছাড় দেবে না এবং হরমুজ প্রণালী বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কোনো দিকেই মেনে নেওয়া হবে না। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারদের জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত পথ।
আইআরজিসি এই হামলাকে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারে অনাচারের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংঘটিত এই ঘটনা ও জবাবি হামলার বর্ণনা আল জাজিরা প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে।