সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি বছরের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী ২৭ মে উদযাপিত হবে। একই সঙ্গে আরাফাত দিবস নির্ধারিত করা হয়েছে ২৬ মে। রোববার সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটির এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের সোশ্যাল মিডিয়ায় মসজিদভিত্তিক দুইটি প্ল্যাটফর্ম—ইনসাইড দ্য হারামাইন এ্যাক্স (X) পেজ—ও চাঁদ দেখা নিশ্চিত করেছে। তাদের প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়েছে, দেশের আকাশে রোববার পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে এবং তাই রাতেই জিলহজ মাস শুরু হবে।
জিলহজ মাস শুরু হওয়ার এই খবরে আশপাশের দেশগুলোর চাঁদ দেখা সিদ্ধান্ত ভিন্ন হওয়ায় ঈদের তারিখে পার্থক্য দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই—আগেই নিজেরা চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে জিলহজ মাস ও ঈদের তারিখ ঘোষণা করেছিল।
মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে ১৮ মে (সোমবার) থেকে জিলহজ মাস শুরু হবে এবং সেই হিসেবে দেশটিতে ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। ইন্দোনেশিয়া থেকেও একই সিদ্ধান্ত এসেছে; দেশের ৮৮টি স্থানে চাঁদ দেখার রিপোর্টের ভিত্তিতে তারা ১৮ মে জিলহজ শুরু ও ২৭ মে ঈদ পালন নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে ব্রুনাই শাহী সালতানাত জানিয়েছে, তাদের আকাশে রোববার কোথাও জিলহজের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই সেখানে জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে ১৯ মে থেকে জিলহজ শুরু হবে এবং ঈদ উদযাপন হবে ২৮ মে।
বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার চূড়ান্ত তারিখ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানাতে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সোমবার একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সাধারণত সৌদি আরবে উদযাপনের পরই বাংলাদেশ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ঈদের তারিখ চূড়ান্ত হয়; কিন্তু চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শেষ সিদ্ধান্ত দেশে-দেশে ভিন্ন হতে পারে।
ইসলামে মাসের সূচনার সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখা নির্ভরশীল। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা হলে সেই মাসের ৯তম দিন আরাফাত দিবস হিসেবে গণ্য হয় এবং ১০তম দিনেই ঈদুল আজহা পালিত হয়। আরাফাহ ময়দানে হজযাত্রীরা একত্র হয়ে বিশেষ দোয়া ও ইবাদত করেন; এ দিনে নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায়ী খুতবা দিয়েছিলেন। বিশ্বের অনেক মুসলমানই এই দিন রোজা রাখেন এবং সামর্থ্যবান মুসলমানরা ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি করে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন।
প্রসঙ্গত, ইসলাম প্রথম গড়ে ওঠার পর থেকেই মক্কা–মদিনা অঞ্চলে প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান হজ পালনে যান; হজ ইসলামের পাঁচটা স্তম্ভের অন্যতম। এ সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য জানাতে সমসাময়িক সংবাদসূত্র হিসেবে গালফ নিউজ ও খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনগুলো দেখানো হয়েছে।