গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী এই অভিযান সম্পন্ন করেছে এবং যে লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল, তা অর্জিত হয়েছে।
রুবিও আরো জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নতুন সামরিক অভিযান পরিকল্পনায় নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না কোনও নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। আমাদের শুভেচ্ছা শান্তি। প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি করতে চান যেখানে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় আনা হবে। তিনি চান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খোলা থাকুক, যেন বিশ্ব আবার আগের মতো স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসে।’
অতীতে, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ২০২৫ সালের জুনে বিষয়টি নিয়ে ১২ দিনের দীর্ঘ সংঘর্ষ হয় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল চার দফায় বৈঠক করে, যেখানে দুই পক্ষের মধ্যেকার সমঝোতা সম্ভব হয়নি। এই অচলাবস্থা শেষে মার্কিন প্রেরিত সেনা অভিযান শুরু করে।
অভিযানের পর থেকে ইরানও পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে—বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান—মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করছে। এসব হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন হাজার হাজার ইরানি এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও।
প্রতিপক্ষে, ইসরায়েল ও মার্কিন सहयोगে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ৪০ দিনের সংঘাতের পর, ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র, যা এখনও চলমান।