রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে ঘটানো হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল রাজসাক্ষী হওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। Aufgrund তার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আজ তার জামিনের জন্য আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যা আদালত শুনেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার।
বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হয়। এই প্যানেলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
অধিকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী মো. আলী হায়দার বলেন, আমার মক্কেল আবদুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার বয়স ৬০ বছর। শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ছিলেন। তবে তার এই ঘটনার সঙ্গে কোনও সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও জানান, তার হার্টে সাতটি ব্লক ধরা পড়েছে, তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিনের প্রয়োজন।
এর পর ট্রাইব্যুনাল বলেন, স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী তার অবস্থা সংকটাপন্ন নয়। একই সঙ্গে একজন বিচারপতির উদাহরণ দেন, যিনি হার্টে ১৭-১৮টি ব্লক থাকলেও নিয়মিত বিচার কার্য পরিচালনা করছেন।
প্রসঙ্গত, জলিলের আইনজীবী বলেছেন, তার মক্কেল চিকিৎসার জন্য দেশেই থাকতে চান। তিনি বলছেন, নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার পাসপোর্ট ট্রাইব্যুনাল জব্দ করতে পারেন, তবে তিনি চাইলে বাসায় থেকেই চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল চাইলে এ মামলায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে তার মক্কেল, এমনকি প্রয়োজনে রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছাও আছে। তবে এ ব্যাপারে জামিনের আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
পরে আইনজীবী আলী হায়দার সাংবাদিকদের জানান, শাপলা চত্বরের এ মামলাটি এখনো তদন্ত চলছে। এতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আবদুল জলিলের নামও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কখনো দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করেননি। ২০২০ সাল থেকে তার হার্টের সমস্যা রয়েছে, নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেই পরিস্থিতিতে আজ তারা জামিনের জন্য আবেদন করেন।
তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালে হার্টের সমস্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও চিকিৎসা চললেও তার প্রোন্নি হয় না বলে মনে করি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল যদি অনুমতি দেন, তবে তিনি বিচার কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে এ জন্য তাকে রাজসাক্ষী হতে হবে। সবমিলিয়ে, ট্রাইব্যুনাল জামিনের আবেদন নাকচ করেন।
অতীতে, ৩১ মার্চ এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ। চলতি মাসের ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের আন্দোলনের সময় আবদুল জলিল ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।