1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা মেহেরপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা সেনাপ্রধান: দেশের ইতিহাসে এতো চমৎকার নির্বাচন আগে হয়নি ‘ঝুমুল’ বৃষ্টিতে সিলেট-ময়মনসিংহে আগাম বন্যার শঙ্কা

এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

বিগত এপ্রিল মাসে দেশে সড়ক, নৌ ও রেলপথে সংঘটিত মোট ৫০৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৪ জন নিহত। তারা আরও আহত হয়েছেন ৭৩৭ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে এ বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। আজ, (৬ মে), এই প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাগুলোর সংখ্যায় রয়েছে ১৪২টি, যার ফলে ১১৩ জন নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ২৭.৯৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩০.৬৬ শতাংশ।

এছাড়া, দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫.২৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারীদের মধ্যে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ১১.৩৮ শতাংশ।

যানবাহনের ভিত্তিতে বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাসের যাত্রী ৩০ জন (৭.৪২%), ট্রাক, কাঅভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ট্রাক্টর চালকদের অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৫১ জন (১২.৬২%), প্রাইভেটকার ও জীপের যাত্রীরা ২৪ জন (৫.৯৪%)। থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) হচ্ছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে ৬১ জন (১৫.০৯%) নিহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের মধ্যে ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্রের যাত্রীরা ১০ জন (২.৪৭%) এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন (৩.২১%) এর মতো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে বিভিন্ন রাস্তায়—১৬৮টির (৩৬.২৮%) জাতীয় মহাসড়ক, ১৯৩টি (৪১.৬৮%) আঞ্চলিক সড়ক, ৪৫টি (৯.৭১%) গ্রামীণ সড়ক ও ৫৭টি (১২.৩১%) শহরের সড়কে।

দুর্ঘটনাগুলোর ধরন অনুযায়ী, মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ৯৭টি (২০.৯৫%), নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে ১৯৪টি (৪১.৯০%), পথচারীকে চাপা দেওয়া হয়েছে ১০৬টি (২২.৮৯%), এবং অন্যান্য ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১৪টি (৩.০২%)।

সংযুক্ত যানবাহনের তালিকায় দেখা যায়, ট্রাক, কাঅভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি ও অন্যান্য বৃহৎ যানবাহন মোট ৬৫৯টি দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে বাস ৮৪টি, ট্রাক ৯১টি, কাঅভার্ডভ্যান ২২টি, পিকআপ ২৩টি, ট্রাক্টর ১২টি, ট্রলি ১৪টি, লরি ৬টি, ট্যাংকলরি ২টি, সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাক ১টি, মাইক্রোবাস ১৯টি, প্রাইভেটকার ১৭টি, জীপ ৩টি, মোটরসাইকেল ১৫৩টি, থ্রি-হুইলার ১১২টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৩টি, রিকশা ১৩টি, বাইসাইকেল ৮টি ও অন্যান্য অজ্ঞাত যানবাহন ৩৬টি।

আঞ্চলিক ভিত্তিতে, ঢাকা বিভাগে ঘটেছে ২৩.৫৪% দুর্ঘটনা ও ২৫.২৪% প্রাণহানি। রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১১%, প্রাণহানি ১০.৩৯%; চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২২.৪৬%, প্রাণহানি ২৩.২৬%; খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩.১৭%, প্রাণহানি ১২.৩৭%; বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৯১%, প্রাণহানি ৫.৯৪%; সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ২.৫৯%, প্রাণহানি ২.৯৭%; রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১২.৭৪%, প্রাণহানি ১৫.০৯%; এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৩৯%, প্রাণহানি ৪.৭০%।

বিশেষ করে, ঢাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা—১০৯টি—ঘটেছে, যেখানে মৃত্যু হয়েছে ১০২ জনের। আর সিলেটে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটে, মোট ১২টি, যেখানে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। রাজধানীতে ৩৬ দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সদস্য একজন, বিজিবি সদস্য দুজন, শিক্ষক ছয়জন, সাংবাদিক তিনজন, চিকিৎসক একজন, প্রকৌশলী দুজন, আইনজীবী দুজন, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তাসহ মোট ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৪ জন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ১৯ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২২ জন, ঔষধি ও পণ্য বিক্রয় করে থাকেন এমন ১৭ জন, মসজিদের ইমাম বা খতিব ৩ জন, পোশাক শ্রমিকেরা পাঁচজন, ধানকাটা শ্রমিক ১২ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৩ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৯ শিক্ষার্থী।

সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণগুলো হলো—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক অবসাদ, বেতন ও কর্মঘণ্টার অনিয়ম, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের ট্রাফিক আইন না জানা ও মানার অভ্যেস, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ বিআরটিএ এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং অবশেষে, গণপরিবহনখাতে চাঁদাবাজির প্রবণতা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo