চলতি মাসেই—আর মাত্র তিন দিন পর—দীর্ঘদিনের প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। গত বছরের নিজের ৬০তম জন্মদিনে গৌরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি এবং তাদের সম্পর্কের কথা তখন থেকেই গৃহীত হয়েছে জনসাধারণের কাছে। তবে আমিরের ব্যক্তিগত জীবন সংবাদ শিরোনামে থাকা নতুন কিছু নয়; বহু বছর ধরেই তাঁর সম্পর্ক ও গুঞ্জনগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে এসেছে।
আমির খানের প্রথম স্বীকৃত বিবাহ ছিল রিনা দত্তের সঙ্গে। একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে কৈশোর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও ১৯৮৬ সালে গোপনে বিয়ে করেন আমির। এই দাম্পত্যে জন্ম নেয় দুই সন্তান—জুনেইদ খান ও আইরা খান। নব্বইয়ের দশকে তাঁরা সুখী দম্পতি হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু পেশাগত ব্যস্ততা ও পারিবারিক কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। অবশেষে ২০০২ সালে ১৬ বছর পর এই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে; সন্তানের কথাকে সামনে রেখে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন উভয়েই।
রিনা দত্তের সঙ্গে বিবাহকালীনও আমিরের নাম বিভিন্ন সহশিল্পীর সঙ্গে জড়িয়েছে—কয়েকটি গুঞ্জন তখনকার সংবাদপত্রে উঠে এসেছিল। ১৯৯১ সালে ‘দিল হ্যায় কে মান্তা নেহি’ মুক্তির পরে পূজা ভাটের সঙ্গে সম্পর্কের গল্প উঠলেও তা পূজার দ্বারা বন্ধুত্ব হিসেবে উতারে। ১৯৯৫ সালের ‘বাজি’ শুটিং চলাকালে মমতা কুলকার্নির নাম জড়িয়ে পড়েছিল, আর ২০০০ সালের ‘দিল চাইতা হ্যায়’ মুক্তির পর প্রীতি জিনতার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে—এমনকি কখনও কখনও গোপন বিয়ের কথাও শোনা যায়; এসব বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত তথ্য কখনও প্রকাশ পায়নি।
নব্বইয়ের দশকের আরেকটি গুঞ্জন ছিল ব্রিটিশ সাংবাদিক জেসিকা হাইনসের সঙ্গে সম্পর্ক ও লিভ-ইন জীবন এবং তাঁদের এক সন্তানের থাকার দাবি—২০০৫ সালে এক প্রতিবেদন এই দাবি তুলে ধরেছিল। আমির এ বিষয়ে কখনও খোলাখুলি মন্তব্য করেননি। এছাড়া ২০১৬ সালের ‘দঙ্গল’ ছবির পর অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রচুর চর্চা দেখা যায়; শোবিজ মহলে এসব সংক্রান্ত নানা রূপকথা ছিল, কিন্তু আনুশাসনিক প্রমাণ বা প্রকাশ্য স্বীকৃতি দেখা যায়নি।
পেশাগত সম্পর্ক থেকেই কিরণ রাওর সঙ্গে আমিরের পরিচয় গড়ে ওঠে—‘লগান’ ছবির set-এ প্রথম তাঁদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠে এবং তা পরে ভালোবাসায় রূপ নেয়। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সান্নিধ্যপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে কিরণকে বিয়ে করেন আমির। দম্পতির ঘরে ২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেয় পুত্র আজাদ রাও খান। দীর্ঘ দশ বছরেরও বেশি সময় তাদের সংসার চললেও ২০২১ সালের জুলাইয়ে ১৬ বছরের দাম্পত্যের ইতি টেনে তারা পৃথক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কিরণ রাওর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আমির কিছু বছর একাই ছিলেন; বিভিন্ন সময়ে সম্পর্কের গুঞ্জন উঠলেও তিনি সেসব বিষয়ে সাধারণত চুপ থাকাই পছন্দ করেছেন। এরপর দীর্ঘ পরিচয়-পরিচয়ের পরে আবার গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গত বছরের জন্মদিনে জনসমক্ষে তিনি গৌরীকে পরিচয় করিয়ে দেন। আমির জানিয়েছেন, বহু বছর আগে তাদের পরিচয় ছিল, কিন্তু মাঝে কিছু সময় যোগাযোগ ছিল না; পরে পুনরায় যোগসূত্র হলে সম্পর্ক নিবিড় রূপ নেয়। বিয়েটি সীমিত পরিসরে, দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আগামী ৫ জুলাই (প্রকাশিত সূত্র অনুযায়ী) অনুষ্ঠিত হবে।
ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ পাশাপাশি আমিরের বেশ বিশাল সম্পত্তিও আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন সূত্রে বলিউডের শীর্ষ ধনী অভিনেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম—তার মোট সম্পত্তি আনুমানিক ১,৮০০ থেকে ২,০০০ কোটি টাকার মধ্যে বলে ধরা হয়। মুম্বাইয়ের বান্দরা ও পালি হিলে তাঁর বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে এবং মহারাষ্ট্রের পঞ্চগণিতে রয়েছে বড় এক খামারবাড়ি।
সার্বিকভাবে বলা যায়, আমির খানের সম্পর্ক ও ব্যক্তিজীবন দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণ ও সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু—কখনও প্রকাশ্য বিবাহ, কখনও গুঞ্জন-অভিযান। তিনি সাধারণত ব্যক্তিগত বিষয়ে নিরপেক্ষ থেকে কাজ ও পরিবারকে আলাদা রাখার চেষ্টা করেন, আর এসব সিদ্ধান্তও প্রায়ই সংবাদ অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করে।