খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মে মাসের সভা আজ রোববার, ১৭ মে, জেলা প্রশাসক হুরে জন্নাতের সভাপতিত্বে তার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উন্নয়ন কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও পশুপালন সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক হুরে জন্নাত সভায় স্পষ্ট করে বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে রাস্তার ওপর কোরবানির হাট বসানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। হাটে আগত যানবাহনের কারণে সড়কে সহিংস জটলা সৃষ্টি না হয়—এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সচেতন ও তৎপর থাকতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগকে পর্যাপ্ত পরিমাণ জলাতঙ্ক ও হামের টিকা মজুদ রেখে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। শিশুদের টিকাকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চলমান কার্যক্রম ত্বরান্বিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
নদী ও খাল পুনঃখননকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, খাল খননের অগ্রগতি রিপোর্টে কৌশল বা চাতুর্যের আশ্রয় গ্রহণ করা যাবে না—প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান সভায় জানান, শিশুদের হামের টিকা প্রদানে আগে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং এখনও টিকা প্রদান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম সভায় জানান, খুলনা জেলায় এবার মোট কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর প্রাপ্যতা এক লাখ ত্রিশ ছয় হাজার ২২৯টি নয়—সঠিক সংখ্যা এক লাখ ৬৩ হাজার ২৯ (১,৬৩,২২৯)টি এবং কোরবানির চাহিদা এক লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬ (১,৫৪,৪৫৬)টি। ফলে উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা আট হাজার সাতশত ত্রিশ তিন (৮,৭৭৩)টি। পুরো জেলায় মোট স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ২৫টি হাট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ৩১টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক সভায় জানান, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত এবং বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানি প্রদানের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা জোরদার করা হবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসন সর্বদা জনসেবা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে বলে সভায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা হয়।