বাগেরহাটের চিতলমারীর ৮৪ নং অশোক নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদের পলেস্তরার একটি বড় অংশ পড়ে নীরবে আঁচড় কেটে যেতে যাওয়া শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৪ মে। চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ঋদ্ধি নাগ ক্লাসরুমের কোণায় বসে ছিল; হঠাৎ পাশেই ছাদ থেকে বিশাল অংশ খসে পড়লে শিক্ষার্থীরা ভয়ে চমকে উঠে। শিক্ষকরা দ্রুত এসে ভীতসন্ত্রস্ত ঋদ্ধিকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর থেকে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার কারণে খোলা মাঠের গাছতলায় ক্লাস করছেন। স্কুলটি চরবানিয়ারী ইউনিয়নের ৮৪ নং অশোক নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে স্কুলটি কেবল একটি ভবনে চলে, যা ২০০০ সালে নির্মিত। ভবনটিতে মোট চারটি কক্ষ রয়েছে; সব কক্ষের ভেতরে ছাদে ফাটল দেখা দেয় এবং পলেস্তরার টুকরা-টুকরা খসে পড়ছে।
বিদ্যালয়ে মোট ৬০ জন শিশূ ও ৪ জন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান-পাঠগ্রহণ করতেন। ছাদ থেকে পলেস্তরার অংশ পড়ার পরে শিশুরা ভীত হয়ে পড়ে; তারা আর ওই কক্ষগুলোতে ক্লাস করতে চায় না। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী—ঋদ্ধি নাগ, আমিষা আক্তার, নিরব বাড়ই, রিক মন্ডল, সেজুতি মন্ডল ও পাপড়ি মন্ডল—বলেছে, শব্দটি শুনে তারা ভয় পেয়েছিল এবং এখন ওই কক্ষগুলোতে ঢুকতে কাঁপে।
শিক্ষার্থী অভিভাবকরা জানান, অল্পের জন্য তাদের সন্তানের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। অভিভাবক মিলন মন্ডল, অখিল নাগ ও হরলাল ঘরামি বলেন, তারা এখন সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে খুব ভাবছেন এবং সন্তানকে পাঠিয়ে দিতে ভয় পাচ্ছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপতি গোলদার ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করেছেন। তিনি পাঠদান চালিয়ে নেওয়ার উপায় সম্পর্কে জেলা ও উপজেলার শিক্ষাবিভাগকে অবহিত করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি আবেদনও করেছেন। চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, তাঁকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বিকল্পভাবে পাঠদান অব্যাহত রাখতে বলেছেন, কারণ ক্লাস বন্ধ রাখা যায় না। যদিও আপাতত বিদ্যালয়ের বারান্দায় ক্লাস করানোর পরামর্শ ছিল, তপতি গোলদা জানান বারান্দায় প্রচণ্ড রোদ পড়ায় তারা মাঠের গাছতলায় পাঠদান করছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার রোববার (১৭ মে) দুপুরে জানান, তিনি জেলার একটি বৈঠকে থাকায় প্রধান শিক্ষকের পত্র পেয়েছেন কিনা সে বিষয়ে তখন নিশ্চিত হতে পারেননি, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, জরুরি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের নিরাপদভাবে পাঠদান চালিয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত। পরীক্ষিত ও স্থায়ী সংস্কারের দাবি একটি সময়সূচীসহ কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হবে বলে এলাকাবাসী আশা করছে।