ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতামূলক স্মারকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের সবচেয়ে কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। নিউজমাধ্যম এক্সিওস বুধবার (৬ মে) এ খবর জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউজ মনে করছে, ওই সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক যুদ্ধ স্থগিত বা বন্ধের ঘোষণা দেবে এবং একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালানোর জন্য একটি কাঠামো তৈরি করবে। স্মারকটি বাস্তবে রূপ নিতে পারলে তা হবে একটি প্রাথমিক চুক্তি, যার ওপর ভিত্তি করে পরে বিস্তৃত আলোচনা ও চূড়ান্ত চুক্তি করা হবে।
সূত্রটি বলেছে, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন হলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে; এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নানা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, ইরানের জব্দ করা বিলিয়ন ডলার মুক্ত করবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। একইভাবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেবে।
এই প্রাথমিক স্মারকে মোট ১৪টি দফা থাকবে বলে জানা গেছে। স্মারক সংক্রান্ত আলোচনা চালাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জার্ড ক্রুসনার, যারা ইরানের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা বলছেন, আলোচনায় অগ্রগতি থাকার কারণে ট্রাম্প হরমুজে নতুন কোনো অভিযান থেকে এক ধাপ সরে এসেছেন।
এক্সিওস জানায়, স্মারক ঘোষণা হলে ৩০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে। ওই সময়ে হরমুজ খোলা রাখা, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আলোচনাগুলো হতে পারে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।
আলোচনার সময় ধীরে ধীরে ইরান হরমুজ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থ মুক্তির মতো পদক্ষেপ নেবে। তবে এই সবকিছু ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। যদি আলোচনা ভেস্তে যায় তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ-অবরোধ আরোপ বা সামরিক বিকল্প বিবেচনা করতে পারে।
সমঝোতায় ইরান কতদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এখনকার প্রস্তাবনায় ১২ বছরের কথা বলা হচ্ছে, যা প্রয়োজনে ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের সহজ শর্ত চানি; আর ইরান শুরুতেই পাঁচ বছরের প্রস্তাব রেখেছিল।
এছাড়া ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এমন প্রতিশ্রুতিও স্মারকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করার অনুরোধ, আইএইএ’র (জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা) পরিদর্শন প্রদান এবং সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করার বিষয়টিও আলোচ্য। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
তবে সবকিছুতে এখনো চূড়ান্ত সম্মতি নেই। মার্কিন কর্মকর্তারা এক্সিওসকে বলছেন, ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজন রয়েছে, ফলে তারা সহজেই একমত হবে কি না তা অনিশ্চিত। আরও বলা হচ্ছে, এই প্রাথমিক স্মারকও হতে নাও পারে। সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো আনা হচ্ছে সেগুলো বাস্তবায়িত হবে কিনা তা একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে—আর সেই চুক্তি না হলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে।