1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা মেহেরপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা সেনাপ্রধান: দেশের ইতিহাসে এতো চমৎকার নির্বাচন আগে হয়নি ‘ঝুমুল’ বৃষ্টিতে সিলেট-ময়মনসিংহে আগাম বন্যার শঙ্কা

সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণা ও বাধ্যবাধকতা প্রয়োজন

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

সংস্কার বিষয়ক প্রতিশ্রুতিতে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নির্বাচনের আগে তারা যা কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকটিই এখন মুখে বলে এড়িয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যদি সরকারকে যথাযথভাবে বাধ্য না করা হয়, তাহলে তারা কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে। রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা উল্লেখ করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এ সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর থেকেই আমি বলেছি, এটি এক ধরনের প্রতারণামূলক সংসদ। আমি কেন এসেছি এবং কী পেলাম? যেসব অধ্যাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আইন করা হয়েছে, সেগুলোর বিচারবিভাগীয় ও সংসদীয় জোরালো সংশোধনী কার্যকর করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোট চুরি করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণে একটি বিশেষ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা পরে সরকার আইন হিসেবে পরিণত করেছে। এর মাধ্যমে তারা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের অপসারণ ও নির্বাচনপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে, যা বিরোধীদলের কাউকেই অপসরণ ও প্রতিযোগিতায় বাধা দেয়। এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, যদিও আমাদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে, তবে বিএনপির প্রস্তাবনায় পুলিশ কমিশন তৈরি হয়েছে। তবে সরকারে গেলে তারা উদ্ভূত বিষয়ে সেটিকে প্রত্যাখ্যান করে গুম কমিশন বাতিল করেছে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়েও বিএনপি সরে গেছে, ফলে আমাদেরও পুনরায় নতুন সংবিধানের দাবি করতে হচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল, তা বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার পরবর্তী সময়ে কেউ বাস্তবায়ন করেনি। ২৪ এর অভ্যুত্থানের পর ফলাফল এটি, যারা প্রথম থেকেই ক্ষমতা নিতে চেয়েছিল, তারা বাংলাদেশের স্বপ্নকে ভঙ্গ করেছে। দেশের এলিট শ্রেণি, সিভিল বান্ডিল ও সামরিক-বুরোক্রেসি ক্ষমতা থেকে ছুঁড়ে ফেলতে চায় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যদি কানাডায় এই ধরনের মিথ্যা বক্তব্য বলতেন, তবেই তার পদত্যাগ বাধ্যতামূলক হতো। সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা মূলত রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা সংক্রান্ত। সাংবিধান সংস্কার কমিটির প্রথম দিকে অনেক র‍্যাডিকেল ভাবনা ছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান এক ব্যক্তি হতে পারবেন না। তবে বিএনপির চাপের কারণে কিছু বিষয় এড়ানো হয়েছে। এরপরও কিছু বড় অর্জন রক্ষা পেয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতো। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার কোনো সংস্কার করতে চায় না। বহুদিন থেকে তারা মনে করে, তাদের সুবিধার জন্য অনেক কিছু করতে পারে, তবে এখন স্পষ্ট হয়েছে, তারা আর কখনো তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী সংস্কার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, পার্লামেন্টের মাধ্যমে সংশোধনী ও সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে এসেছে। দলের নেতা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বিভিন্ন পদে দলীয় ব্যক্তি বসানোর জন্য তারা সংবিধানের মূল কাঠামোকে লঙ্ঘন করতে দ্বিধা করছে না। সভা শেষে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা আরও নৈকট্য করতে চাইছে, তারা সংস্কারে অরুচি দেখাচ্ছে। তাদের নেতারা নেট অব ডিসেন্টের কথা বললেও, আসলে সবাই মূল দিকের ব্যাপারে একমত। গণভোট শেষে তাদের আপত্তিগুলোও প্রাধান্য পায়নি। তিনি আরও বলেন, চারটি প্রশ্নে তাদের আপত্তি থাকলেও, গণভোটের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, উচ্চকক্ষ হবে ভোটের পিআর অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী, এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগগুলো হবে একটি নিরপেক্ষ বোর্ডের মাধ্যমে। এসব বিষয়ের ওপর আমাদের সব পক্ষ একমত ছিল। তবে কিছু বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার অনুযায়ী সম্পন্ন করার ছিল। আলোচনা শেষে মনিরা শারমিন এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রন করেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo