যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধ কতদিন চলবে— তা নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ বড় অংশই নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর।
গত রোববার ফোনে সিএনএনকে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এটা পারস্পরিক সিদ্ধান্ত; আমরা (ইসরায়েলসহ ilgili পক্ষগুলোর সঙ্গে) কথা বলছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি আমি নেব এবং সঠিক সময়ে নেব। সবকিছু বিবেচনায় আনা হবে।”
ট্রাম্প এর আগেও ৩ মার্চ বলেছেন, তার বিশ্বাস আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত শেষ হতে পারে। তবে ওই মন্তব্যের একদিন পর পিট হেগসেথের মতো কিছু মন্তব্যে বলা হয়েছিল, যুদ্ধটি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত টেনে যেতে পারে—এটি সময়সীমা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অনুমান ও মতভেদের এক নজির।
প্রসঙ্গত, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটন কর্তৃক আয়োজিত সংলাপ চলেছিল ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত — মোট ২১ দিন। ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র নিজের অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং প্রায় একই সময়ে ইসরায়েলও ইরানে ‘রোয়ারিং লায়ন’ নামের একটি অভিযান চালায়। উত্তেজনা বৃদ্ধির ধারায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। গত দশকের হিসেবে নয়, তবে সাম্প্রতিক দশ দিনের মধ্যে সৌদি আরবের কোনো মার্কিন ঘাঁটি, মার্কিন দূতাবাস ও তেলকেন্দ্রিক স্থাপনায় মুহূর্তে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
এই সব বিবৃতি ও ঘটনাবলী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
সূত্র: রয়টার্স