কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হচ্ছে ৯ জুলাই (উত্তর আমেরিকার স্থানীয় সময়; বাংলাদেশ সময় ১০ জুলাই)। বিশ্বকাপের এই ধাপে ওঠা দলগুলোর জন্য এখন যে অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়েছে, সেটা হল হলুদ কার্ডের হিসাব — কারণ কোয়ার্টার ফাইনালে যদি কোনো খেলোয়াড় আরেকটি হলুদ কার্ড পান, তাহলে তিনি সেমিফাইনাল খেলতে পারবেন না। শিরোপা দৌড়ে থাকা দলগুলোর পরিকল্পনা ও কৌশলে এর প্রতিক্রিয়া পড়ে বড়ভাবে।
এই টুর্নামেন্টে মোট ৪৮ দল অংশগ্রহণ করছে। অতিরিক্ত নকআউট রাউন্ড যোগ হওয়ায় ফিফা হলুদ কার্ড সম্পর্কিত নিয়মে কিছু পরিবর্তন এনেছে। গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড গ্রুপ পর শেষ হতেই মুছে দেওয়া হয়েছে। এরপর শেষ ৩২ ও শেষ ১৬-এর ম্যাচে পাওয়া হলুদ কার্ডগুলোর হিসাব কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। আর কোয়ার্টার ফাইনাল পার হলে পূর্বের হলুদ কার্ড আর গণ্য হবে না—অর্থাৎ কোনো খেলোয়াড় ফাইনালে পৌঁছাতে হলুদ কার্ডের কারণে বঞ্চিত হবেন না। তবে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই কার্যকর থাকবে এবং গুরুতর আচরণে শাস্তি বাড়ানোও যেতে পারে।
এমন নিয়মের বদলে এখন বেশ কিছু বড় নামই সেমিফাইনালে না খেলার ঝুঁকিতে রয়েছেন। মোট ১৮ জন খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে আর্জেন্টিনার গঞ্জালো মন্টিয়েলও আছেন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো — প্রত্যেক দলের চারজন করে খেলোয়াড় আছে ঝুঁকিতে। ইংল্যান্ডের ভুক্তভোগী খেলোয়াড়রা হলেন: জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস ও মার্ক গেই। মরক্কোর পক্ষে ঝুঁকিতে আছেন ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল ও বিলাল এল খানুস।
ফ্রান্সের মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে ও ব্রাডলি বারকোলা সতর্কতাবশত খেলবেন। সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহাইমও একই অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া আর্জেন্টিনার গঞ্জালো মন্টিয়েল, স্পেনের ফেরান তোর্স, বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেচেলে ও নরওয়ের অ্যান্তোনিও নুসাও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে এই খেলোয়াড়দের প্রতিটি ট্যাকল, ফাউল বা রেফারির সিদ্ধান্ত তাদের দলের জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে। খেলোয়াড়দের ওপর দলীয় দায়বদ্ধতা ও কৌশলের সঙ্গে ছাড়পত্রের চাপও বাড়বে—অল্প অনভিপ্রেত সংঘর্ষ বা শক্ত নিবার্ঘ্য প্রতিবাদও দলকে শেষ মুহূর্তে সেমিফাইনাল থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নকআউট পর্বে কোনো খেলোয়াড় যদি ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পান, তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেন। লাল কার্ডের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি—সরাসরি লাল কার্ড দেখলেই পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না, আর গুরুতর উল্লঙ্ঘন হলে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি দীর্ঘ মেয়াদে শাস্তিও দিতে পারে।
কোয়ার্টার ফাইনাল ৯ থেকে ১২ জুলাই ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সেমিফাইনাল মাঠে গড়াবে ১৪ ও ১৫ জুলাই; তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ১৮ জুলাই এবং ফাইনাল ১৯ জুলাই। এই সময়সূচির মধ্যে দলগুলোকে নৈতিক ও কৌশলগতভাবে সতর্ক থেকে প্রতিটি ম্যাচ খেলতে হবে, যাতে সেরা খেলোয়াড়রা শীর্ষপর্বে থেকে দলকে লড়াইয়ে রাখে।