শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের মধ্যে দাঙ্গায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত এবং শতাধিকের বেশি ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। দাঙ্গায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজন কারা কর্মকর্তা এবং বাকিরা কয়েদি। অনেকেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নেগোম্বো জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংঘাত রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে শুরু হয়। প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে এটি ছিল মাদক পাচারে জড়িত দুটি অপরাধী চক্রের বা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষ, যার ফলে প্রথমে দুই বন্দীর মৃত্যু এবং অনেকে আহত হন।
কারা প্রশাসন সাময়িকভাবে পরিস্থিতি দমন করলেও সোমবার সকালে বন্দিরা আবারও সহিংসতা বাড়ায় এবং নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এক পর্যায়ে কয়েদিরা কারাগারের ভেতর থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও লুটে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশের কমান্ডো ইউনিট (এসটিএফ) থাকা অবস্থায় গুলি চালানো হয় এবং পরে বিমানবাহিনীর ড্রোন ও হেলিকপ্টারসহ শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনী মোতায়েন করে পুরো কারাগার ঘিরে ফেলে ভেতরে প্রবেশ করে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
দুর্ঘটনায় ১০০ জনেরও বেশি বন্দী ও কারারক্ষী আহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় থাকায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ আলাদা আলাদাভাবে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।
বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি কয়েদি থাকার সমস্যা দীর্ঘদিনের, যা নেগোম্বো কারাগারে আরও প্রকটভাবে দেখা গেছে—এখানে বর্তমানে ২ হাজার ৪১৭ জন কয়েদি আছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়েছে। এই বহুবিধ পরিস্থিতি দাঙ্গার সূত্রপাত ও তীব্রতাকে ত্বরান্বিত করেছে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
সূত্র: দ্য মিরর, আনাদোলু