1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান অংশ নেন মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় আইভীর জামিন বহাল; কারামুক্তির পথে আর আইনগত বাধা নেই হাইকোর্টের জামিন বহাল: আইভীর কারামুক্তিতে আর আইনি বাধা নেই প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় অংশ নেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী মানহানির মামলায় আমির হামজার গ্রেফতারের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যা করে লাশ টুকরা-মর্ষ: স্ত্রী ক্যামেরায় ঘটনার বর্ণনা স্বীকার আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ গ্রেফতার গাজীপুরের ৫ খুনের প্রধান সন্দেহভাজন ফোরকানের অর্ধগলিত লাশ পদ্মা থেকে উদ্ধার শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যা করে লাশ টুকরা, স্ত্রী ক্যামেরায় স্বীকার

জনগণের ৭০ শতাংশ রায় মেনে নিন: বিএনপির প্রতি জামায়াত আমিরের আহ্বান

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

জাতগণের ৭০ শতাংশের রায়কে সম্মান করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। সমাবেশটি ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবিতে আয়োজন করা ছিল।

ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির প্রতি সরাসরি বলেন, ‘‘জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে আপনারা বলেছিলেন—জনগণের পক্ষে না দাঁড়ালে আগামী নির্বাচনে জনগণ জবাব দেবে। এখনো সময় আছে; এসে জনগণের রায় মেনে নিন। জনগণ উদার, তারা দোষস্বীকার করলে ক্ষমা করে দিতে জানে।’’

তিনি যারা দেশের জন্য ত্যাগ ও আত্মদান করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন। ‘‘আজকের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সেই ত্যাগের ফল। স্বপ্নবাজ তরুণদের অবদানেই অনেকেই কারামুক্ত হয়েছেন, কেউ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন। অথচ কৃতজ্ঞ না থেকে অনেকেই আগের স্বৈরাচারী পথে হাঁটছেন,’’ বলেন জামায়াত আমির।

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘তরুণরা ভয়কে জয় করে গুলির মুখে দাঁড়িয়েছিল। গত ১৭ বছর ধরে আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, তবে দেশকে পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত তরুণদের রক্ত ও আত্মত্যাগের ফলেই স্বৈরাচারমুক্ত হওয়া সম্ভব হয়েছে। আজ তাদের ‘শিশু সংগঠন’ বা ‘গুপ্ত সংগঠন’ বলা হয়—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’’

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘‘আপনারা নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলেন—নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া কেউ ক্ষমতায় বসবে না। অথচ এখন দেশের ৪২টি জেলায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে এবং সিটি কর্পোরেশনেও প্রশাসক বসানো হয়েছে। আমরা চাই একটি গুম কমিশন গঠন করা হোক, যাতে অতীতের অন্যায়গুলোর বিচার হয়; তাতেও আপনারা কর্ণপাত করেননি।’’

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সংসদে সত্য বলা না গেলে জনগণের মাঝে গিয়ে কথাগুলো বলবেন—সেখানে কোনো স্পিকারের অনুমতি লাগে না। ‘‘কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না,’’ তিনি জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, অনেক সময় তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু ‘‘যে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও হাসিমুখে জীবন দিতে পারে, তাদেরকে ভয়ের আড়ালে রাখা যায় না। আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে সম্মান করি, কিন্তু কেউ যদি আমাদের চোখ রাঙায়, তা মেনে নেওয়া হবে না। যদি দেশের শান্তি নষ্ট করা হয়, জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’’

পদ্মা ও তিস্তা নদীর অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘‘আজ পদ্মা ও তিস্তার বিশাল অংশ মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। আমরা চাই, নদীগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাক। খাল কাটার কর্মসূচি ভাল উদ্যোগ, কিন্তু নদীতে পানি না থাকলে খাল খননের সুফল মিলবে না। আমরা যদি সুশাসন ও ন্যায্যতা দেখতে না পাই, সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।’’

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন রাজশাহী মহানগর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও জেলা সেক্রেটারি গোলাম মুর্তুজা। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি। এতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগরীর আমির ড. মোঃ কেরামত আলী এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম, রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবু জার গিফারী, বগুড়া মহানগরীর আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জয়পুরহাট জেলার আমির মোঃ ফজলুর রহমান সাঈদ এমপি, এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরা শারমিন এবং পাবনা জেলার আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এমপি।

সমাবেশ থেকে তারা দাবি জানান যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে; দেশের সম্মান বজায় রাখা তাদের অগ্রাধিকার থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo