খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ১২তম সাধারণ সভা মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সভার সভাপতিত্ব করেন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিশেষ করে, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত প্রকল্পের আওতায় গ্যারেজের সম্প্রসারণের জন্য সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১ অনুযায়ী ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডের ২৫০ মিটারের মধ্যে আবাসিক প্রকল্প গ্রহণে বিধিনিষেধের বিষয় আলোচনা হয়। এছাড়া, রাজবাঁধ ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডের ২০০ ফুট দক্ষিণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কল্যাণ ফাউন্ডেশন কর্তৃক জমি ক্রয়ে সম্মতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নগরীর উন্নয়নে আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেমন—খুলনা ওয়াসার সড়ক খনন কাজের জন্য স্থানিয় সরকার বিভাগের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোন কাজ বন্ধ রাখা, চলতি অর্থবছর জুন পর্যন্ত বিজ্ঞাপন করের বকেয়া আদায়ের জন্য সময় দেওয়া, বিদ্যমান বিলবোর্ডের ভাড়া সংক্রান্ত উদ্যোগ নেওয়া, ও অনাদায়ী বিজ্ঞাপন সংস্থার বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য খুলনা শহরের উন্নয়ন প্রকল্পের (ফেজ-২) ডিপিপির প্রাক্কলন মূল্য বেশি হওয়ায়, প্রথম পর্যায়ে সোনাডাঙ্গা বাইপাসের অর্ধেক অংশ ও ২৩টি পুকুরের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়, পরবর্তীতে ডিপিপির সংশোধনের মাধ্যমে বাকি অংশের কাজও সম্পন্ন হবে। নগরীর ট্রাফিক পরিস্থিতি উন্নত করতে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য রোডম্যাপ প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য সুপারিশ ও বর্ষা মৌসুমের আগে জলনির্গমন সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ ড্রেনসমূহের পেড়িমাটি উত্তোলনের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নগরীতে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করতে, ডালান ও সেমিপাকা ভবনের পৌরকর পুনঃনির্ধারণ ও নামকরণের জন্য নয়া একটি কমিটি গঠন, এবং বিশেষ তারিখে বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, খুলনা জাতীয়তাবাদী দল ও মহানগর শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের নামে নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ হবে।
অপর পক্ষ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের স্থানান্তর ও নগরীর ডাকবাংলো মোড় থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা অবৈধভাবে উচ্ছেদের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। ভাষণে, প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে সাধারণ মানুষের চাহিদা ও সমস্যাগুলোর গভীরতা বুঝতে পেরেছেন। তিনি বলেন, সীমিত জনবল, অর্থ ও সম্পদের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিমুক্ত নগরী গড়তে প্রয়োজনীয় সকল পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং খুলনাকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তর করতে কর্পোরেশনের সকল পর্যায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।
সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের পরিচালনায়, বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা—একমাত্র পুলিশ, কেএমপি, কেডিএ, মোংলা বন্দরের, সড়ক ও জনপথ, ওজোপাডিকো, স্বাস্থ্য বিভাগ, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, নাগরিক প্রশাসন, ট্রাফিক ও বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট רבים উপস্থিত ছিলেন। এই সভার মাধ্যমে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি লক্ষ্যে নেওয়া নতুন পরিকল্পনা ও কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের দিকে দৃঢ় এগিয়ে চলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।