1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা মেহেরপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনেটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NASA)-এর নভোযান আরেটেমিস ২-এর চার নারী ও পুরুষ নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। দশ দিনের এই ঐতিহাসিক চন্দ্র অভিযানে তারা বিশ্ববাসীর কাছে নতুন এক ইতিহাস রচনা করলেন।

গত ১০ এপ্রিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টার দিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে অবতরণ করে NASA-র ওরিয়ন ক্যাপসুল। এরপর, উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতা নিয়ে দুতলার ক্যাপসুল খুলে বের হন চারজন নভোচারী।

এর আগে, ১ এপ্রিল, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এই বিশেষ অর্বহ রোভার। এবং তা সফলভাবে আজ পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। নভোযানে ছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। এই চারজনের মধ্যে তিনজন মার্কিন নাগরিক এবং একজন কানাডার নাগরিক।

নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযানে আরেটেমিস ২ মহাকাশযান পৃথিবীর দুই অক্ষাংশে মোট ১১ লাখ ১৭ হাজার ৫১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। চন্দ্রের কাছাকাছি গিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ ফ্লাইবাই সম্পন্ন করে, অর্থাৎ মহাকাশে স্বধীনভাবে মহাকর্ষের টানে মহাকাশযানটি খুব কম দূরত্ব দিয়ে যায়, কিন্তু কোনোক্রমে মহাকর্ষ টানে কক্ষপথে আবদ্ধ হন না।

পৃথিবীতে ফেরার সময় ক্যাপসুলটি বেশ চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করে। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় বাইরের তাপমাত্রা ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়, যা এক বিশাল আগ্নিগোলক সৃষ্টি করে। এই তাপের কারণে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে বড্ড দেরি না করে, উদ্ধারকারী দল ক্যাপসুল থেকে নভোচরীদের নামাতে সক্ষম হন।

বিশ্বের ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ এই দৃশ্যের ভিডিও দেখেছেন, যেখানে তারা দেখতে পেয়েছেন মহাকাশচালকরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসছেন। নভোচরীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও নাসার যৌথ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুক্রবার রাতে তারা নৌবাহিনীর জাহাজে কাটিয়েছেন, এবং শনিবার হিউস্টোনে ফিরে এসে অতীতের অভিজ্ঞতাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

প্রথম চন্দ্র অভিযানের ওপর ভিত্তি করে ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো চাঁদে পা রাখেন নাসার নভোচারীরা। অ্যাপোলো ১১ মিশনে নীল আর্মস্ট্রং, অলড্রিন এবং কলিন্স প্রথমবারের মতো চাঁদে পা রাখেন। এরপর ১৯৭০ সালে শেষ অ্যাপোলো অভিযানে, অ্যাপোলো ১৩, পৃথিবীর মহাকাশ ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছিল, যেখানে তারা ২ লাখ ৪৮ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে।

নাসা এখন নতুন লক্ষ্যে এগাচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে আবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে। এই প্রস্তুতি হিসেবে চলতি বছর অনুষ্ঠিত হয় আরেটেমিস ২ মিশন, যা ছিল প্রস্তুতিমূলক এবং ইতিহাসে এক নতুন দিক।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো একজন নারী (ক্রিস্টিনা কোচ) এবং একজন অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে কানাডার জেরেমি হ্যানসেন মহাকাশে গিয়েছেন, যা মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

আবৃত্তির শেষ পর্যায়ে, মিশনের প্রধান নভোচারী রেইড ওয়াইজম্যান বলেন, “আমরা চন্দ্রের অসাধারণ দৃশ্য দেখেছি, যা গতবারের চেয়ে কিছুটা ছোট মনে হচ্ছে। আমাদের ফিরে যেতে হবে।” এই মন্তব্যে এই অভিযানের গুরুত্ব এবং তার অসাধারণ তারিখের গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo