1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

তেল সংকট নিয়ন্ত্রণে ইরানের তেল কেনার অনুমতি দিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘর্ষ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি গুরুতর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালু থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনও অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে—ঘোর শত্রু ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করে তেল কেনাবেচার সুযোগ করে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার (২০ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক তিন সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়ায় আমেরিকাসহ বহু দেশে পেট্রলের গড় দাম এখন গ্যালনে প্রায় ৪ ডলারের কাছাকাছি, যা সাধারণ ভোক্তাদের কষ্ট বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ সংকট তীব্র হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে যে, সমুদ্রে ভাসমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল মিত্র দেশগুলোর কাছে বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। সূত্রটি বলছে, পূর্বে চীন এই তেল ক্রয় করতে চেয়েছিল নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই; এখন ওয়াশিংটন নিজে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ভারত, জাপান বা ভিয়েতনাম জাতীয় মিত্র দেশগুলোকে ক্রয়ের সুযোগ করে দিতে চাইছে।

বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর। কারণ তিনি নিজে যখন বারাক ওবামার পরমাণু চুক্তিকে কড়া সমালোচনা করেছিলেন, তখন ওবামার সময় ইরানকে অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া হয়েছিল—এখন ট্রাম্প প্রশাসন একই ধরনের ছাড়ের পথে হাঁটছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি কর্মকর্তা নীলেশ নেরুরকার বলেন, ‘এটি তেল বাজারের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য বিপর্যয়। বর্তমানে যে পরিমাণ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত মজুদ বা বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের হাতে নেই।’ অন্যদিকে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, যদি তেল বিক্রি করা হয় তবু ইরান সরাসরি সেখান থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারবে না এবং তাদের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ অব্যাহত থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের অনুধাবন মতো, ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ব চাহিদার মাত্র দেড় দিনের সামগ্রীও হতে পারে না। তাই এই একবারের সরবরাহ কতটা টেকসইভাবে তেলের দাম কমাবে—তা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে—তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত দিন হরমুজ প্রণালী অবরোধী থাকবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বজায় থাকবে, তত দিন তেলের বাজারে চাপ থাকবে। হোয়াইট হাউস মুখপাত্র টেলর রজার্স নিরাশা কমাতে চেষ্টা করে বলেছেন, ‘যদি সামরিক লক্ষ্য সফল হয় তাতে তেলের দাম আরও কমে যাবে,’ কিন্তু সেই লক্ষ্য কখন অর্জিত হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি।

সংক্ষেপে বলা যায়, অস্ত্রধ্বনির চেয়েও এখন তেলের বাজারের অস্থিরতা হোয়াইট হাউসের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo