বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৩৮ দিন পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি) তামিম ইকবালকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে তাকে আইসিসির পূর্ণ সদস্য পরিচালক হিসেবে অনুমোদন করা হয়েছে এবং সঙ্গে‑সঙ্গে তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটির চেয়ারম্যানও হয়েছেন।
স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক সভার পরে এই সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ক্রিকেট নামিবিয়ার ড. রুডি ফন ফুরেন, ভারতীয় বোর্ড বিসিসিআইয়ের দেবজিত সাইকিয়া, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের রিচার্ড গুল্ড এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার টড গ্রিনবার্গ।
আইসিসি দুটি নতুন উপকমিটি ঘোষণা করেছে; একটি হলো তামিমের নেতৃত্বাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটি এবং অপরটি গভর্ন্যান্স রিভিউ কমিটি, যার চেয়ারম্যান দেবজিত সাইকিয়া। গভর্ন্যান্স রিভিউ কমিটির সদস্যদের মধ্যে আছেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান ড. মোহাম্মদ মুসাজি এবং আইসিসির স্বাধীন পরিচালক ড. রস রিভাজ।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হিসেবে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে (CWI) ১ কোটি ২৮ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫৮ কোটি টাকা) ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মরিশাসকে আইসিসির ১১১তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সদস্যপদ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়েও আইসিসি পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্রিকেট কানাডার পুনর্বহালের শর্তাবলি বোর্ড অনুমোদন করেছে; নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত তাদের স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আইসিসি সংশোধিত সংবিধান প্রণয়নের অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তবে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন না হওয়া পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে আইসিসি বোর্ডের সভায় প্রতিনিধিত্ব করার অনুমতি দেয়া হবে না। ফ্রান্স ক্রিকেটকে সদস্যপদ মানদণ্ড লঙ্ঘনের কারণে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আইসিসি ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের ফরম্যাটও চূড়ান্ত করেছে: ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ও এতে অংশ নেবে ১৪ দল। ২০২৮ সালের টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে, যেখানে ২০ দল অংশগ্রহণ করবে।
আইসিসির এই সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনে বাংলাদেশ ও তামিমের ভূমিকার গুরুত্ব বাড়ায়—তবে বাস্তব প্রভাব বুঝতে সময় লাগবে, বিশেষত নতুন কমিটি ও কর্মকর্তাদের কার্যক্রম কার্যকরভাবে শুরু করার পরই ফল দেখা যাবে।