বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ মোট ৯ জন কেন্দ্রীয় নেতা শিবির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি নিয়েছেন। শিবিরের চলমান সেশন শেষে নিয়মনীতির অংশ হিসেবে তাদের বিদায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিবির থেকে বিদায় নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান এবং দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।
শিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেন এবং বলেন, ছুটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম আবেগাপ্লুত হয়ে লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির—আমার অনুভব ও ভালোবাসার সংগঠন; একটি দীর্ঘ সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেছেন, ‘‘এ সংগঠনের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো ছিল জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও ফলপ্রসূ। এই কাফেলা আমাকে দেশ ও জাতি নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে, ঝিমিয়ে থাকা ভাঙিয়ে কথা বলতে শিখিয়েছে এবং নেতৃত্বের গুণগুলো মমতায় বিকশিত করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবির আমাকে আধ্যাত্মিক ও আত্মিকভাবে পথপ্রদর্শন করেছে।’’
সাদিক কায়েম স্মৃতিচারণ করে যোগ করেছেন, পেছনে ফিরে দেখলে অসংখ্য প্রিয় মুখ আর সংগ্রামী মুহূর্ত চোখে ভেসে ওঠে। ‘‘সময়ের প্রতিটি পর্যায়ে নিবেদিতপ্রাণ সহযোগী এবং জনশক্তির সান্নিধ্য ছিল আমার জীবনের বড় অর্জন; তাদের কাছ থেকেই আমি শিখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি,’’ তিনি লিখেছেন।
শেষে তিনি দোয়া করেছেন—আল্লাহ তায়ালা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের কর্মীদের কৃতিত্বগুলো কবুল করুন, মজলুম মানুষের মুক্তি আন্দোলনের পথ চালিয়ে যেতে তাওফিক দিন এবং আগামী দিনে আন্দোলনকে জয়ী করার মতো যোগ্য নেতৃত্ব দান করুন।
শিবিরের বর্তমান নেতৃত্ব ও বিদায়ী নেতারা সংগঠনের কাজ ও আদর্শকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও সক্রিয়ভাবে সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনে ভূমিকা পালন করবেন বলে অনেকে আশা প্রকাশ করেছেন।