আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বের করল ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট—যেটা খেলোয়াড় ও দর্শকের জন্য আরও উত্তেজনাপূর্ণ ও অর্থবহ করে তোলা লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদিত এই পরিবর্তনে মূল পার্থক্য হল ১৪ দলই এখন এক কাতারে শুরু করবে না; তিনটি আলাদা ধাপ পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে।
আগে যেমন প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়া মানেই মূল গ্রুপ পর্বে খেলার নিশ্চয়তা থাকত, এবার তা থাকবে না। করোনার পর গড়ে ওঠা সিলেবাস-ভিত্তিক চিন্তা ও প্রতিটি পর্যায়ের গুরুত্ব বাড়াতে আইসিসি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় আয়োজিত টুর্নামেন্টে আগের ঘোষণা অনুযায়ী ১৪টি দেশ অংশ নেবে, কিন্তু তাদের পথ তিন পর্বে বিভক্ত।
প্রথম পর্ব — সুপার সিরিজ:
১৪ দলের মধ্যে নিচের সারিতে থাকা তিন দল প্রথমেই খেলবে ‘সুপার সিরিজ’ নামে প্রাথমিক রাউন্ডে। ওই তিনটি দল প্রত্যেকেই একবার করে পরস্পরের বিরুদ্ধে খেলবে (রাউন্ড রোবিন) এবং মাত্র শীর্ষ দলটি পরের পর্বে টিকে যাবে। বাকী দুই দলের বিশ্বকাপের পথ এখানেই শেষ। অর্থাৎ টুর্নামেন্টে জায়গা পেয়ে গেলেও মূল গ্রুপে খেলার গ্যারান্টি থাকবে না।
কিভাবে সেই তিন দল নির্ধারিত হবে—র্যাঙ্কিং, বাছাইপর্বের ফল নাকি অন্য কোনো মাপকাঠি—এ বিষয়ে আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে এখনও চূড়ান্ত বিবরণ দেওয়া হয়নি; পরে আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
দ্বিতীয় পর্ব — দুই গ্রুপে ১২ দল:
সুপার সিরিজ থেকে উঠে আসা এক দলকে যোগ করে মোট ১২ দলকে দুইটি গ্রুপে ভাগ করা হবে, প্রতিটি গ্রুপে ছয়টি দল। প্রতি দল গ্রুপের বাকি পাঁচ দলের সঙ্গে একবার করে খেলার ফলে মূল গ্রুপ পর্যায়ে মোট ৩০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল সরাসরি ‘সুপার সেভেন’-এ উঠবে। পাশাপাশি দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানদারদের মধ্যে সেরা এক দলও সপ্তম টিকিট পাবে। সমান পয়েন্ট হলে নেট রানে-রেট ও নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে কেবলমাত্র একটি দলের কাছে সেই সুযোগ মিলবে।
তৃতীয় পর্ব — সুপার সেভেন:
সুপর সেভেনে জায়গা হওয়া সাত দল পরস্পরের বিরুদ্ধে একবার করে খেলবে—মোট ২১টি ম্যাচ। প্রতিটি দল খেলবে ছয়টি করে ম্যাচ। এই পর্বের শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে উঠবে: ১ বনাম ৪ এবং ২ বনাম ৩। দুই সেমিফাইনাল জয়ী দলের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
মোট ম্যাচসংখ্যা:
সুপার সিরিজের তিন ম্যাচ, মূল গ্রুপ পর্যায়ের ৩০টি, সুপার সেভেনের ২১টি, দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে নতুন ফরম্যাটে মোট ম্যাচ হবে ৫৭টি।
আইসিসি বলছে, এই ফরম্যাটের লক্ষ্য হলো প্রতিটি পর্বকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা ও দর্শক ও খেলোয়াড় দুজনের অভিজ্ঞতা উন্নত করা। তবে কোন তিন দল প্রথম রাউন্ডে পড়বে এবং সেই সমন্বয় কবে ও কীভাবে প্রকাশ করা হবে—সেটা দেখার বিষয়। সমর্থক ও বিশ্লেষকদের চোখ এখন আইসিসির পরবর্তী নির্দেশনার দিকে।