সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালকে সামনে রেখে ক্যানসাস সিটিতে দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলন করেন আর্জেন্টিনা প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। অন্যান্য নানা বিষয় ছাড়াও তাকে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে রেফারির পক্ষপাতিত্ব সংক্রান্ত তেলেভুল মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।
স্কালোনি বিষয়টিকে নতুন কিছু বলে ভাবেন না। তিনি পেছনে ফিরে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ উদাহরণ টানেন এবং বলেন, ‘‘ঐ সময়ও বলা হতো আমরা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছি। এটা নতুন কোনো বিষয় নয়।’’ তার মতে, এমন কথাবার্তা মূলত খেলোয়াড়দের উপর চাপ সৃষ্টি করে বলার চেষ্টাই করা হয় যে কেউ আর্জেন্টিনা যাতে জিততে না পারে—কিন্তু একইভাবে অনেকেই চান অন্য দলগুলো না জিতুকও।
কোচ বলেন, দল এসব কথাকে একটি ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছে: ‘‘আমরা এটাকে একটি বিদ্রোহের মতো ব্যবহার করি, যাতে খেলোয়াড়রা আরও ভালো খেলে।’’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বর্তমান VAR ব্যবস্থার কারণে রেফারির পক্ষপাতিত্ব করা আজকাল অনেক কঠিন। ‘‘VAR-এ দ্বৈত ব্যাখ্যার কোনো গণ্ডি নেই,’’ তিনি বলেন।
স্কালোনি গত ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে বাতিল হওয়া গোলের ঘটনাটিকেও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘লিসান্দ্রো মার্টিনেজের প্রতি আঘাত করা হয়েছে—সামান্য বা যথেষ্ট—এটি একটি ফাউল। এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই।’’
কোচ আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই অসত্য কিংবা অতিরঞ্জিত অভিযোগ ছড়ানো হয়। ‘‘আজকাল ছোট বিষয়গুলোকে অনেক বেশি করা হয়। অনেকেই কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইন্টারনেটে পোস্ট করে দেয়, আর সেটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। আমাদের এসব নিয়ে মাথা ঘামানো উচিত নয়,’’ তিনি উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন।
স্কালোনি আগে কেপ ভার্দের ম্যাচের আগেও একই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন এবং তখনও তিনি সোশ্যাল মিডিয়া না পড়ে রাখার কথা বলেছিলেন—কারণ অনলাইনে মানুষ দ্রুত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে।
গত মিশর ম্যাচে আর্জেন্টিনার একটি গোল বাতিল হয়েছিল এবং শেষ মুহূর্তে পেনাল্টির আবেদন রিভিউ না করার কারণে সমালোচনা উঠেছিল। তবু ম্যাচটিতে আলবিসেলেস্তেরা ৭৮তম মিনিটে ২-০ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ফিরে এসে ৩-২ গোলে জিতেছে—এটাই মাঠেই সবচেয়ে বড় উত্তর, এমনটাই ইঙ্গিত দেন স্কালোনি।