বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে হলুদ কার্ডের হিসাব এখন দলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা। কোয়ার্টার ফাইনালে যদি কোনো খেলোয়াড় আরেকটি হলুদ কার্ড পান, তাহলেই তিনি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় ভুগবেন এবং সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না — ফলে প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে শিরোপা দৌড়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। মোট ১৮ জন খেলোয়াড় এই মুহূর্তে সেই ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট (৪৮ দল ও অতিরিক্ত নকআউট রাউন্ড) বিবেচনায় রেখে হলুদ কার্ডের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্যায়ে পাওয়া হলুদ কার্ডগুলো গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল করা হয়েছে। তবে শেষ ৩২ (রাউন্ড অব ৩২) ও শেষ ১৬ (রাউন্ড অব ১৬) রাউন্ডে পাওয়া হলুদ কার্ডের হিসাব কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। কোয়ার্টার ফাইনাল পার হওয়ার পর আবার হলুদ কার্ডের হিসাব রিসেট হবে, তাই কোনো খেলোয়াড় হলুদ কার্ডের কারণে সরাসরি ফাইনাল থেকে বাদ পড়বেন না। কেবল সরাসরি লাল কার্ড বা গুরুতর আচরণের ক্ষেত্রে ফিফা শৃঙ্খলা কমিটি অতিরিক্ত শাস্তি দিতে পারে — এ নিয়ম অপরিবর্তিত আছে।
এই নিয়মের কারণে নকআউট পর্বে ভিন্ন দুটো ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলেই একজন খেলোয়াড় স্বয়ংক্রিয়ারভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। তাই প্রতিটি ট্যাকল, ফাউল বা রেফারির কাছে করা প্রতিবাদ এখন আরও সতর্কভাবে করতে হবে — একটি অনভিপ্রেত হলুদ কার্ডও বড় সমস্যা ডেকে আনতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো — উভয় দলেরই চার করে খেলোয়াড় এখন নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রয়েছেন। তালিকাভুক্ত খেলোয়াড়রা হলেন:
– ইংল্যান্ড: জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি
– মরক্কো: ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস
তাছাড়া ফ্রান্সের মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে ও ব্রাডলি বারকোলা; সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহাইম; আর্জেন্টিনার গঞ্জালো মন্টিয়েল; স্পেনের ফেরান তোরেস; বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেচেল এবং নরওয়ের অ্যান্তোনিও নুসাও—এই খেলোয়াড়রাও কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি হলুদ কার্ড পেলেই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বেন।
ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিটি ম্যাচেই দলগুলোর কমান্ডো ও কোচদের পরিকল্পনায় সতর্কতার কড়ি জোরালো থাকবে। স্টার খেলোয়াড়দের রসায়ন ঠিক রেখে ব্যবহার না করলে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের অনুপস্থিতি দলের ভাগ্যই বদলে দিতে পারে।
পরবর্তী সূচি অনুযায়ী কোয়ার্টার ফাইনাল ৯ থেকে ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে (উত্তর আমেরিকার স্থানীয় সময় ৯ জুলাই, বাংলাদেশ সময় ১০ জুলাই থেকে শুরু)। সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ও ১৫ জুলাই, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ১৮ জুলাই এবং ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই।