কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামে সাইফুল্লাহ মোল্লা (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পিঠা খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি শনিবার বেলা আনুমানিক ১টার দিকে ঘটে বলে স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়। ভুক্তভোগী শিশু ওই গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর_initial তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি হলে শিশুটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। প্রতিবেশি সাইফুল্লাহ মোল্লা শিশুটিকে পিঠার লোভ দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে ফাঁকা বাড়ির এককক্ষে শিশুটির সঙ্গে থাকার সময় তাকে নিয়ে অপরাধ আটকায় বলে অভিযোগ। শিশুটি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ও তার মা এসে উপস্থিত হন; তখন তারা আসামিকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে।
গ্রামবাসী মোশাররফ ঢালী জানান, ঘটনায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রতিবেশীরা প্রথমে ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে সন্ধ্যায় মীমাংসায় বাধ্য করার চেষ্টার পর পরিবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানায়।
কয়রা থানা পুলিশ রাত সাড়ে ৮টায় অভিযুক্ত সাইফুল্লাহ মোল্লাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। কোয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাসানুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী পরিবার অনুরোধ করেন এবং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে; মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত চলছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘‘গরুর ঘাস কাটতে গিয়েছিলাম, ফিরে এসে মাকে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে লাগলাম। এক পর্যায়ে প্রতিবেশীর বাড়ির কাছে গিয়ে মেয়ের চিৎকার শুনি। দরজা ধাক্কা দিলে খুলে যায়। আমি এসেই দেখি—সাইফুল্লাহ মেয়েটির কাছ থেকে লাফিয়ে উঠে পাশের দিকে সরে দাঁড়িয়েছে এবং আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে আমার কাছে এসে জড়িয়ে ধরেছে। আমি চাই শিশুটির উপর অত্যাচারের পূর্ণ বিচার হোক।’’
পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ নির্দিষ্ট তথ্য প্রজ্ঞাপন করছে এবং প্রাপ্ত অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।