অভিনয়ের জগৎ থেকে সরাসরি রাজনীতিতে এসে নিজ প্রথম নির্বাচনে তুমুল সাফল্য দেখালেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—জনপ্রিয় নাম থালাপতি বিজয়। এবারের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে শুধু নিজ আসনটি জেতেননি, তার দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) ১০৮টি আসনে জয়ের মাধ্যমে রাজ্যের ৪৯ বছরের একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে।
১৯৭৭ সালে চলচ্চিত্র থেকে উঠে নিজের দল গঠন করে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এমজি রামাচন্দ্রন—এই ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন একক উদাহরণ ছিল। পরবর্তীতে বড় চলচ্চিত্র তারকা জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রীর আসনে এসে সাড়া জাগিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে একটি নতুন দল গঠন না করে তখনকার শাসনধর এআইএডিএমকে-র ভিতর থেকে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘসময় কোনো অভিনেতা নিজের দল গঠন করে একইভাবেই রাজনীতিতে শীর্ষে পৌঁছতে পারেননি।
বিজয়ের এই জয় তাই বিশেষ মনে করা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর মোট ২৩৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন; টিভিকে এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তবে জোট গঠন হলেই জোটের চলক হিসেবে টিভিকেই কেন্দ্রীয় ভূমিকা থাকবে এবং রাজ্যপুত্র হিসেবে বিজয়কে তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজয়ের রাজনীতির যাত্রাও ছিল পরিকল্পিত। ২০০৯ সালের দিকে থেকে নিজের ভক্তকুল সংগঠিত করা শুরু করেন তিনি এবং বিভিন্ন ভক্তদলের সমন্বয়ে গঠন করেন বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সেটি এআইএডিএমকের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছিল। ২০২১ সালে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজয় নিজেকে রাজনৈতিকভাবে আলাদা করে তোলার পথে হাঁটেন এবং ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম গঠন করেন।
অভিনয়জীবন থেকে রাজনীতিতে পা রাখা, নিজের দল গঠন এবং নির্বাচনী সাফল্যে উঠে আসা—এই পুরো প্রক্রিয়ায় এমজি রামাচন্দ্রনের সঙ্গে অনুরূপ পথচলা দেখা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন। এখন টিভিকে ও বিজয় কীভাবে জোট সাজাবে এবং সরকার গঠন করে ক্ষমতায় আসবে—এটাই সামনে আসা বড় প্রশ্ন।
সূত্র: এনডিটিভি