শুধু বিনিয়োগই নয় — ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি আগমন বাড়াতে ভিসানীতি-২০২৬ অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন নীতিমালাটি অনুমোদন করা হয়। প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানায়েন, নীতিমালাটি আরও কার্যকর ও সমৃদ্ধ করার জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভার কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নাসিমুল গনি বলেন, পুরনো নীতি পারস্পরিকতার ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল — অন্য দেশের দেওয়া ভিসার মেয়াদ অনুযায়ী আমাদেরও ভিসা দেওয়ার যে-practice ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের দিক থেকে দেখা গেছে, আমাদের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়া প্রয়োজন। একজন ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারী যদি প্রবেশ করে ব্যবসা করবার ইচ্ছা দেখান, তাকে দ্রুত সুযোগ করে দেয়া উচিত। সেই মানসিকতা থেকেই এই নতুন ইকোনমিক থ্রাস্টের ধারণা এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ভিসা নীতি সহজতর করার লক্ষ্যে বাস্তবিকভাবে কাজ করা হয়েছে এবং নীতিটি মোটামুটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চূড়ান্ত প্রণয়নের আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত ওই মন্ত্রিসভা-কমিটিই শেষ দফার সিদ্ধান্ত নেবে।
কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তাজনিত দিকগুলো দেখবে। এছাড়া পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও এতে সদস্য হিসেবে থাকছে। যারা যদি নীতিটি আরও সমৃদ্ধ করে এমন কোনো পরামর্শ দেন, তা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত নীতি প্রণয়ন করা হবে।
নাসিমুল গনি জানান, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে যাতে বিদেশিরা দ্রুত বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ, ব্যবসা, পর্যটন বা দক্ষতা-সংক্রান্ত কার্যক্রম করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘‘দেশে যে পরিমাণ পুঁজি রয়েছে, তা সীমিত; বিদেশি বিনিয়োগ যত বেশি হবে ততই লাভজনক। তাই বাইরের সঞ্চিত পুঁজিকে আকৃষ্ট করাই আমাদের লক্ষ্য।’’
নতুন নীতিতে ভিসার শ্রেণি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ‘ক্যাটাগরি ৩৪’ ধাঁচের করা হয়েছে।
পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বৈদেশিক বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা—এসব লক্ষ্য সামনে রেখে ২০০৬ সালের ভিসানীতি সংশোধন করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। নীতির খসড়া পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা-কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবীয় সহায়তা দেবে।