মোংলা বন্দর ও ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের যাতায়াত সহজ করতে জনস্বার্থে মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টা দুইটি ফেরি পরিষেবা চালু করা হয়েছে। ফেরি চলাচল নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে নদীর চ্যানেল নিয়মিত খনন করা হবে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ খাল ঠাকুরানী পরিষ্কার করা হয়েছে—যাতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য দুটোই রক্ষা পায়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম এসব কথা বলেন মোংলা ফেরিঘাট ও ঠাকুরানী খাল পরিদর্শনকালে। তিনি বলেন, আগে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে একটিই ফেরি চলত, ফলে শ্রমিক ও যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন আরও একটি ফেরি যুক্ত করা হয়েছে, ফলে দুইটি ফেরি ২৪ ঘণ্টা চলার ফলে যাত্রীসুবিধা অনেক বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফেরি চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেল নিয়মিত খনন করা হবে। খনন কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় ফেরি চলাচলে বিঘ্ন কমবে এবং দ্রুত পারাপার সম্ভব হবে।
ফেরিঘাট পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মোংলা পৌর শহরের প্রাণস্থল ঠাকুরানী খাল পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও সরেজমিনে দেখেন। খাল থেকে ময়লা অপসারণের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে, এখন খালের প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড খনন কাজ শুরু করবে। এর ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হবে, শহরের সৌন্দর্য বাড়বে এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, বিদেশি সফর (উজবেকিস্তান, সমরখন্দ ও জার্মানি) শেষে দেশে ফিরে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম তার নির্বাচনী এলাকা এবং স্থানীয় উন্নয়নের কাজেই মনোনিবেশ করেছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতিমন্ত্রী প্রথমে মোংলা ফেরিঘাটে পৌঁছেন এবং সেখানে ঘাটের সার্বিক অবস্থা ও যাত্রীসুবিধা-অসুবিধা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। এরপর তিনি ঠাকুরানী খালের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ পরিদর্শন করেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিবেশ রক্ষা এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমি, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী, পৌর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি ছাড়াও সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্থানীয় বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী আরও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার emphasise করেন।