বাংলাদেশে অপুষ্টি জনিত অন্ধত্ব নির্মূল এবং অপুষ্টি জনিত শিশুমৃত্যু রোধে ২৮ জুন সারাদেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১ ওয়ার্ডে স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের ভ্যাকসিনেশনের পাশাপাশি পুষ্টি সম্পর্কিত বার্তাও প্রচার করা হবে। ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ৬–১১ মাস বয়সী প্রত্যেক শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ IU) এবং ১২–৫৯ মাস বয়সী প্রত্যেক শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ IU) একবার খাওয়ানো হবে। এ ছাড়া শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে মা’র দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম complementary খাবার দেয়ার উপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হবে।
ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এবং সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে বৃহস্পতিবার নগর স্বাস্থ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক-অবহিতকরণ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সভায় উল্লেখ করেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং রাতকানা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কর্মী, স্বেচ্ছাসেবা সংগঠন ও জনসাধারণের কাছে আন্তরিকভাবে কাজ করে এই ক্যাম্পেইন সফল করার অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইলসাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মীউল ইসলামসহ স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
সভায় জানানো হয়, মহানগরে মোট ১,০৮,৯৫২ জন শিশুকে টার্গেট করে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬–১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ১২,৩৩৭ জন এবং ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ৯৬,৬৫৫ জন। সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে মোট ১,৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। ওয়ার্ডভিত্তিক কেন্দ্র সংখ্যা ৫৮০টি, মোট কেন্দ্র ৭১০টি; এর বাইরে মোবাইল কেন্দ্র ৮০টি এবং এনজিও পরিচালিত কেন্দ্র ৫০টি বাস্তবায়নে থাকবে। পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য ৬২ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবে।
প্রতিষ্ঠানগুলোজন্য প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি মা-বাবাদেরও অংশগ্রহণ জরুরি বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। তারা অনুরোধ করেন, নির্দিষ্ট দিনে শিশুকে কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে এবং শিশুর পুষ্টি ও পরিচর্যার বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে।