সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার বরাত দিয়ে সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে ভাষ্য দেওয়া হয়েছে।
অল-আরাবিয়ার শুক্রবার (২২ মে) জানানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের সম্ভাব্য খসড়ার জন্য মোট নয় দফার রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। খবর অনুযায়ী, উভয় দেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া মাত্রই এই খসড়া চুক্তি কার্যকর হবে।
আল-আরাবিয়ার কাছে খসড়ার কিছু শর্ত-প্রস্তাব এসেছে। সেগুলো সংক্ষিপ্তভাবে দেওয়া হলো—
১) সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক, চূড়ান্ত ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে; এতে স্থল, সাগর ও আকাশ সবই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২) সামরিক, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উপর সরাসরি আঘাত না করার পারস্পরিক অঙ্গীকার।
৩) সামরিক হামলা ও প্রচারমূলক যুদ্ধ (মিডিয়া ওয়ার) বন্ধ করা।
৪) পারস্পরিকভাবে সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি।
৫) আরব সাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
৬) চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি যৌথ ব্যবস্থাপনা মেকানিজম গঠন করা হবে।
৭) সাত দিনের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য সম্মতি।
৮) চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলার বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি।
৯) আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি আনুগত্যের পুনর্ব্যক্তকরণ।
তবে আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত তেহরান বা ওয়াশিংটন কোন পক্ষই খসড়া চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে নি। ফলে এখনও বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে।