আগামী সপ্তাহে পবিত্র ঈদুল আযহা। তাতে আগে থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে ২৬২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২ হাজার ১৮৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা ধরা হয়েছে)। এর ফলে মে মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে আসছে প্রায় ১,৬০৯ কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে, রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে মূলত কয়েকটি কারণ কাজ করছে — হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর জন্য দেওয়া প্রণোদনা ও সুবিধা, এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সেবার উন্নয়ন। ঈদকে সামনে রেখে পরিবার-বন্ধুদের সমর্থনে পাঠানো অর্থের চাহিদাও স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে; তাই মে মাসের বাকি সময়ে রেমিট্যান্স আরও বাড়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কয়েক দফায় শক্তিশালী হয়েছে। জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। তারপর ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ, ফেব্রুয়ারি ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ এবং এপ্রিল মাসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
বিশ্লেষক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, এই ধারাটি অব্যাহত থাকলে চলতি মে মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে শক্তি যোগ করবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।