1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে; নিত্যপণ্যের উৎসে কর রাখা হলো ০.৫০ শতাংশ

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে নতুন উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৃহস্পতিবার তার খসড়া পর্যালোচনায় বিভিন্ন করসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়—যাতে ব্যক্তিগত করছাড় বাড়ছে, কিছু নতুন কর আরোপের ধারা চালু হচ্ছে এবং ভ্যাট-উৎসের কিছু নিয়ম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের কাছে নির্ধারিত আদায়ের টার্গেট প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের লক্ষ্য পূরণে ভ্যাট, আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকেই সবচেয়ে বড় অংশ আসবে; এগুলো মিলিয়ে মোট লক্ষ্যের প্রায় ৭৪ শতাংশ। আমদানি-রপ্তানিতে শুল্ক আয়ের অংশ ধরা হয়েছে ২৬ শতাংশ।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির। বর্তমানে ৩ লাখ টাকা থাকা করমুক্তসীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ব্যাংক আমানতের ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো আগ্রিম কর/ক্যাটেজরি শুল্ক নেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এনবিআরের বৈঠকে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর আগের মতোই ০.৫০ শতাংশ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে—অর্থাৎ চাল, ডাল, চিনি, খেজুরসহ সবধরনের নিত্যপণ্যের উপর উৎসে কর বাড়ানো হয়নি। তবে আগামী বাজেট থেকে সম্পদকর চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে; তা প্রথম বছরে ১ শতাংশ হারে ধার্য করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অনলাইন গেমিংয়ের ওপর উৎসে কর ধার্য করা হয়েছে ২৫ শতাংশ। পাশাপাশি কিছু নতুন করধারাও নিয়ে পরিকল্পনা চলছে—মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং কিছু ক্ষেত্রে মদ ও নতুন পণ্যে ভ্যাট আরোপের সম্ভাব্যতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘বাংলা টেসলা’ নামে পরিচিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো করের আওতায় আনতে চাইছে সরকার; পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বছরে আনুমানিক ৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে পারে এবং নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে। ঐ একই ধাঁচে সিসি-ভিত্তিক মোটরসাইকেলের ওপর ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপের সম্ভাবনাও যোগ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক প্রাইভেটকারের ক্ষেত্রে কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, কিন্তু দামি বা বিলাসবহুল গাড়ি—বিশেষত ৩,৫০০ সিসির বেশি পিসির ক্ষেত্রে—অগ্রিম আয়কর বৃদ্ধি পাবে। ঐ ধরনের গাড়ির অগ্রিম আয়কর এখন ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তুলনায় ১,৫০০ সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর ২৫ হাজার টাকাই থাকবে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে ভবিষ্যতে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (BIN) দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে; তবে বলেছে এনবিআর, BIN পেতে ভ্যাট কর্মকর্তার অনুমোদন লাগবে না—এটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হবে। এছাড়া কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তৈরি মদে ও কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে ভ্যাট আরোপের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে।

বাজেট প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এনবিআর ২০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে উপজেলা পর্যন্ত ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাট রেডি করা হবে—ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য টোকেন হিসেবে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব বৃদ্ধির এসব উদ্যোগ নিয়ে আয়কর বিশ্লেষক আশরাফ হোসেন খান বলেন, সরকার যদি উন্নয়ন খরচে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে, নাগরিকরা কর দিতে রাজি হবে। ‘‘সরকারি উন্নয়ন কাজে যদি সব ব্যয় পরিচ্ছন্নভাবে খরচ হয়, মানুষের আস্থা বাড়বে এবং কর দেয়ার প্রবণতাও বাড়বে,’’ তিনি বলেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ছোট ব্যবসায়ী ট্যাক্স এড়িয়ে আসছে; তাদেরই এখন ভ্যাট বা আয়কর দানে আনতে এগিয়ে আসার প্রয়োজন। তিনি মনে করান, দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানো সত্ত্বেও আয় অজুহাতে কর এড়ানো চলবে না—সবাইকে কর ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

সংক্ষেপে, আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাতে নতুন কর আরোপ এবং নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর অপরিবর্তিত রাখা—এসব মিলিয়ে সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব বাড়ানো। এনবিআর ও অন্যান্য ক্যাটাগরির রাজস্ব একত্রে সরকার চাইছে আগামী অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে, একই সঙ্গে কড়াকড়ি আর স্বচ্ছতার দাবি ওঠছে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo