বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতের হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির শিকার হয়েছে, যার বড় একটি অংশ পাচার হয়েছে। এই দুর্নীতির জন্য এখন পর্যন্ত 6টি শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলো এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, নাসা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাবেক উপকূলীয় মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ও অগ্রণী ব্যাংকের উপর বিনা বাধায় ঋণ গ্রহণ করতে সহযোগিতা করেছে, ফলে ব্যাংকগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকসহ বেসরকারি ব্যাংকগুলোও এই লুটের আঁতেলদারদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অর্থের শুদ্ধি ও ফেরত আনতে হবে, এবং দুর্নীতির সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিয়মের দায়ও রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা, যারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব হলো এই ধরনের অনিয়মের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ। বিআইবিএম এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, প্রত্যেক ব্যাংক ও শিল্পগোষ্ঠীর ঋণের নির্দিষ্ট সীমা ও নিয়মাবলি থাকা সত্ত্বেও অবহেলায় অনেক ক্ষেত্রে এসব নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকেরও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারতেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানাচ্ছে, নানা চাপের কারণে বিগত সরকারের সময়ে লুটেরাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন সেই টাকা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেন, কিছু বাহ্যিক চাপ বা রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই ধরনের অনিয়মে জড়িত হয়েছেন। তবে ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের দাবি, যদি দোষীদের কঠোর বিচার না হয় তাহলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে না এবং সাধারণ মানুষের আস্থা হারাতে পারে।