তামিলনাড়ুর বড় জয়ের মধ্যেও থালাপতি বিজয় আজ (বৃহস্পতিবার) রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন না। রাজ্যের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর এখনও টিভিকের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে নিশ্চিত হননি—এমনটাই জানিয়েছে এনডিটিভির প্রতিবেদন। ফলে শপথগ্রহণ আজকার আনুষ্ঠানিক সূচি নিয়ে স্থগিতির সিদ্ধান্ত এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি সূত্র বলছে, কংগ্রেস zwar বিজয়ের দলকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সব জোটদল ও নির্দলীয়দের সমর্থন পাকা করে নেওয়া এখনও সময়ের ব্যাপার। তাই সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য বিজয়ের শিবিরকে আরো এক-दুই দিন লাগতে পারে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় বলা হচ্ছে, রাজ্যপাল ইতিমধ্যে বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন এবং তারপর কেরালার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন—সেখানে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলান। গতকাল এক বৈঠকে বিজয় রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, টিভিকে সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুনও তাঁদের আইনি দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবেন।
সংখ্যানিক অবস্থান বোঝাতে গেলে: টিভিকে বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য মোট ১১৮টি আসন দরকার। কংগ্রেসের পাঁচটি আসনের সমর্থন যোগ হলেও (প্রসঙ্গত—বিজয় দুইটি আসনে জয়ী হয়েছেন, তার একটিকে বাদ ধরার প্রেক্ষাপটে) টিভিকের এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যায় পৌঁছতে ছয়টি আসনের ঘাটতি রয়ে গেছে। পরবর্তী স্বাভাবিক ধাপ হবে—বিধানসভায় বিজয় তাঁর সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা।
তবে কাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়া হবে, সে ব্যাপারে এখনও নির্দিষ্ট চিত্র সামনে আসেনি। টিভিকে-র দুইটি আসনে জয়ী বিধায়কদের দলের সঙ্গে বুধবার চেন্নাইয়ে এক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল; সেই বৈঠককে শুক্রবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ দুই বামপক্ষ তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে ৮ মে পর্যন্ত সময় চেয়েছে। বামদের ৪টি আসনের মধ্যে দুটি সিপিআই এবং দুটো সিপিআই(এম)-এর।
এক বিকল্প জোট-ছকও শোনা যাচ্ছে—টিভিকে এবং এআইএডিএমকের জোট, যেখানে এআইএডিএমকের ৪৭টি আসন যুক্ত হলে তা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়েও বেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এআইএডিএমকের অন্তত ৩০ জন বিধায়ক টিভিকে সমর্থন করতে রাজি হতে পারেন।
তামিলনাড়ু কংগ্রেসকে টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে। তামিলনাড়ু কংগ্রেস ইনচার্জ গিরিশ চোদানকর জানিয়েছেন, দক্ষিণে বিজেপিকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেয়ার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে থাকা শ্রেয়। কংগ্রেস বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিলে দলের কর্মীরা সদর দপ্তরে উল্লাস করেছেন। কংগ্রেস বলেছে, তাদের একমাত্র শর্ত—সংবিধানকে অস্বীকারকারী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জোটের বাইরে রাখা।
এদিকে বিরোধী দল ডিএমকে কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে আ লীগের জন্য ঘাঁটা ব্যর্থতা বলে আখ্যা দিয়েছে। ডিএমকের মুখপাত্র সারাভানান আনাতুরাই বলেছেন, কংগ্রেস টিভিকের সঙ্গে মন্ত্রিসভার দুটি পদের লোভে নিজেকেই ধ্বংস করছে এবং তামিলনাড়ুর জনগণের পিঠে ছুরি মারার কাজ করেছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা তাত্কার্য্য বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোটের ভাঙন নির্দেশ করে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকের বড় জয় তামিলনাড়ুর দীর্ঘকালের দ্বৈত রাজনীতিকে বদলে দিয়েছে। ডিএমকে-র প্রভাব হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষিতে কোলাথুর আসনে টিভিকের ভি এস বাবুকে হারিয়ে এম কে স্টালিন ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
সংক্ষিপ্তভাবে: আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিজয়ের শপথগ্রহণের দিন চূড়ান্ত হয়নি—রাজ্যপালের সম্মতি ও বিভিন্ন দলের চূড়ান্ত সমর্থন জানার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।