1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
জামালপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান আসামি সাদিক খালাস সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু; গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন রাজধানীর সব ভবনে সৌর প্যানেল বসানোর উদ্যোগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ফারজানার আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে ব্যাগ, ড্রেস ও ফুটওয়্যার বিতরণের উদ্যোগ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে: নুর নাসির ও তামিমার মামলার রায় ঘোষণার দিন—১০ জুন চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ফলে তিস্তা চুক্তির আশার আলো দৃশ্যমান

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই বিজয়ের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটছে। এই ফলের সাথে সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য নতুন আলোর আভাস দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে আগামীতে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত তিস্তা পানির বিরোধ সমাধানে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে, এটি উভয় দেশের মধ্যেকার সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বিএনপি’র তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির এই জয় তিস্তা পানি বণ্টন বিষয়ক দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা 해결ের পথ সুগম করবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এখন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সাথে যৌথ উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু হতে পারে।

হেলাল ব্যাখ্যা করেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস তিস্তা ব্যারেজ চুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। তবে এখন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির জয় বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি মনে করেন, কারণ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত এই রাজ্য দিয়ে গড়া। এই পরিবর্তন দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নত করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে।”

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে হেলাল আরও বলেন, “আগে দেখা গেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিল এই প্রকল্পের মূল বাধা। এখন শুভেন্দু অধিকারীের নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের কাছে প্রত্যাশিত এই ব্যারেজ চুক্তিটি বাস্তবায়নে তারা সাহায্য করবে। আশা করছি, তৃণমূলের পরিবর্তে বিজেপির প্রশাসনই এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করবে।”

প্রসঙ্গত, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে একটি কেন্দ্রীয় অমীমাংসিত সমস্যা। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি ন্যায্য হস্তান্তর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ বাংলাদেশ এই পানির জন্য বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছে।

বাংলাদেশের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে ভারত পর্যাপ্ত পানি ছাড়েনা, যা কৃষি ও জীবিকার ক্ষতি করে, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই সমস্যা আরও বেড়ে গেছে। ১৯৮৩ সালে ভারতের ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী চুক্তি হয়। ২০১১ সালে দুই দেশ একটি তিস্তা চুক্তির খসড়া তৈরি করে, যেখানে শুষ্ক মৌসুমে ভারতের ৩৭.৫% এবং বাংলাদেশের ৪২.৫% পানি পাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি।

আরও আশার কথা হলো, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরেও আলোচনায় আসে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক পানি বণ্টন চুক্তির অঙ্গীকার, তবে সেই সময়ও বাধা হয়ে দাঁড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট ৫৪টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও, এখনো কেবল গঙ্গা ও কুশিয়ারা নদীর জন্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিস্তা, ফেনী ও অন্যান্য নদীর বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান।

এ বিষয়ে হেলাল বলেন, যদিও বিএনপি ও বিজেপির আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও, তিস্তা ব্যারেজ ও সম্পর্ক উন্নয়নে উভয় পক্ষের স্বার্থ一致। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার এই সম্পর্ককে আরও ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo