মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে পাকিস্তান অধিনায়ক পেসার শাহিন আফ্রিদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের আসল লক্ষ্য — এটি শুধু বাংলাদেশ বিনিমেষ নয়, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পথে একটি বড় অভিযান।
৮ মে শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া সিরিজকে পাকিস্তান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে। শাহিন বলেন, তারা এখন কেবল সিরিজ জিততে চাইছে না, বরং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে ওঠাটাই প্রধান লক্ষ্য।
শাহিন বলেন, ‘আমরা শুধু একটি সিরিজ নিয়ে ভাবছি না, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকেও মাথায় রেখেছি। আমাদের লক্ষ্য কীভাবে ফাইনালে ওঠা যায়, কীভাবে ফাইনাল খেলতে যায়—এই প্রশ্নগুলোই আমাদের মুখ্য। দল হিসেবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত; সবাই জানে টেস্টে আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে।’
তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেন যে পাকিস্তান সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্সে এমন অবস্থানে নেই যেখানে তাদের থাকা উচিত। পয়েন্ট টেবিলে ছয়, সাত বা আট নম্বরে থাকা তাদের মানসম্মত নয়, বলে মন্তব্য করেন।
উর্দুতে দেওয়া বক্তব্যে শাহিন আরও বলেন, ‘নম্বরের দিক থেকে আমরা সন্তুষ্ট নই। সবাই জানে আমরা ছয়, সাত, আটে শেষ করছি—এটা ভালো লক্ষণ নয়। শেষ সিরিজে হয়ত আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু সেটাও আমাদের ২-০ ব্যবধানে জেতা উচিত ছিল।’
শাহিনের ধারণা, পাকিস্তানের ক্রিকেটের ভিত্তি হওয়া উচিত টেস্ট ফরম্যাটই। যদি টেস্ট ক্রিকেট শক্ত হয়, তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও সাফল্য আসবে। তাই ফিটনেস এবং দীর্ঘ সময় লক্ষ্য রেখে মানসিক প্রস্তুতিতে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত টেস্ট ক্রিকেটে শীর্ষে থাকা। টেস্ট যদি ভালো হয়, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিও ভালো হবে। এজন্য ফোকাস বাড়াতে হবে, ফিটনেস আরও উন্নত করা দরকার।’
ড্রেসিং রুমে একই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদও। শাহিন জানান, সরফরাজ কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের ব্যবহার ও কন্ডিশন বুঝে দলের পাশে আছেন—এটাই এখন দলের জন্য সঠিক সময় বলে মনে করেন তিনি।
পাকিস্তানের কোচিং স্টাফে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর সাবেক অধিনায়ক সরফরাজকে প্রধান কোচ করা হয়েছে; শাহিন মনে করেন এই মুহূর্তে সরফরাজই সবচেয়ে যোগ্য বিকল্প। ‘তিনি আমাদের সঙ্গে খেলেছেন, অধিনায়ক ছিলেন—খেলোয়াড়দের কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা তিনি ভালোভাবে জানেন,’ যোগ করেন শাহিন।
অতীতের রেকর্ড নিয়ে বেশি আবেগ আপস করেন না শাহিন। তার দৃষ্টি এখন বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে—পাকিস্তান এখন কোথায় আছে নয়, আগামী লক্ষ্য কোথায় সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ‘অতীত অতীতই। আমি ব্যক্তিগতভাবে অতীত মনে রাখতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ, কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছি—দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্য বড়,’ তিনি সমাপ্ত করেছেন।