খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মো. মুকুল কাগজীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত মুকুল কাগজী সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ১০ নম্বর সোরা গ্রামের রাজ্জাক কাগজীর ছেলে।
খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (৪র্থ আদালত) বিচারক মো. খুরশীদ আলম আজ (বুধবার) এই রায় ঘোষণা করেন। রায়টির তথ্য আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
তদন্তে জানানো হয়, ২০১৩ সালে মুকুল কাগজী উপজেলার দারোগার ভিটারের মোয়া বিল্লাল হোসেন মল্লিকের মেয়ে মোছা. হেনা বেগমকে বিয়ে করেন। দম্পতির একটি পুত্রসন্তান আছে। বিয়ে হওয়ার পর থেকেই মুকুল প্রায়ই হেনাকে মারধর করতেন বলে পরিবার জানিয়েছে। হেনার বাবা বিষয়টি জানার পর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মেয়েকে মিলে মিশে থাকার পরামর্শ দেন।
সূত্রে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে শান্তিনগর বাড়িতে পারিবারিক বিবাদের এক পর্যায়ে মুকুল তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে হেনা ফুফুকে খবর দিতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আশিকের বাড়িতে গেলে পেছন থেকে মুকুল একটি ইট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। হাসপাতালে নেয়ার আগেই হেনার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত হয় এবং মুকুল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যান।
নিহতের বাবা বিল্লাল翌দিন বটিয়াঘাটা থানায় মামলা করে। একই বছরের ৩১ অক্টোবর বটিয়াঘাটা থানার এসআই বোধন চন্দ্র বিশ্বাস মুকুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচার পর্যায়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত শেষে আদালত এ রায় দেন।
কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার বিবরণ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত মৃত্যুদণ্ডসহ জরিমানা ও বিকল্প কারাদণ্ডের বিবেচনা করেছেন। স্থানীয়রা ও নিহতের পরিবার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।